২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের খালাসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা লিভ টু আপিলের শুনানি মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে।
আজ (সোমবার) আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই দিন ধার্য করেন। এর আগে গত ১৫ মে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ শুনানি ২৬ মে পর্যন্ত মুলতবি করেছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের করা দুটি লিভ টু আপিল আজ আদালতের কার্যতালিকায় ১ নম্বরে ওঠে। তবে প্রধান বিচারপতির অনুপস্থিতির কারণে শুনানি মঙ্গলবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়। আসামিপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান। তিনি বলেন, “লিভ টু আপিল শুনানির অপেক্ষায় আছে। প্রধান বিচারপতি না থাকায় শুনানির জন্য আগামীকাল দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।”
হাইকোর্টের বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের বেঞ্চ ২০২۳ সালের শেষদিকে আলোচিত এই মামলায় খালাসের রায় দেন। এরপর ২০২৩ সালের ১৯ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়, যেখানে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক দুই মামলায় আসামিদের খালাস দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে পৃথক দুটি লিভ টু আপিল করে, যা গত ১৩ মার্চ চেম্বার আদালতে উত্থাপিত হয় এবং পরে নিয়মিত বেঞ্চে পাঠানো হয়।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান, কিন্তু দলের নেতাকর্মীসহ ২৪ জন নিহত এবং শতাধিক আহত হন।
২০১৮ সালে বিচারিক আদালত এই মামলার রায়ে বাবর, সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং তারেক রহমানসহ আরও ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এরপর মামলাটি হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স হিসেবে প্রেরিত হয় এবং দণ্ডপ্রাপ্তরা পৃথক জেল ও নিয়মিত আপিল করেন।
সরকার পরিবর্তনের পর শুনানির বেঞ্চ পুনর্গঠন হওয়ায় আপিলের ধারাবাহিকতা কিছুটা ব্যাহত হয়। তবে সর্বশেষ ৩১ অক্টোবর থেকে পুনর্গঠিত বেঞ্চে আবার শুনানি শুরু হয়। আগামীকাল আপিল বিভাগে এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

