শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ কলেজের নাম পরিবর্তনে -২৯ মে ২০২৫ — দেশের ৩৭টি জেলার ৬৮টি সরকারি কলেজের নাম পরিবর্তনের অংশ হিসেবে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় অবস্থিত ‘সরকারি শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ ডিগ্রি কলেজ’—এর নাম পরিবর্তন করে ‘কাপাসিয়া সরকারি ডিগ্রি কলেজ’ রাখা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। আর এতেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শহীদ তাজউদ্দীন আহমদের ছেলে, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ।
ফেসবুক পোস্টে তীব্র প্রতিক্রিয়া বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে কলেজের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। পোস্টের শুরুতেই তিনি তুলে ধরেন তার পিতার একটি বিখ্যাত উক্তি:
মুছে যাক আমার নাম, তবু বেঁচে থাকুক বাংলাদেশ।
সোহেল তাজ লেখেন, শহীদ বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমদ শুধু কাপাসিয়ার নয়, বরং সমগ্র জাতির গর্ব। কলেজটি যেহেতু তাঁর নিজ ইউনিয়নের অন্তর্গত, তাই সেখানে তাঁর নাম থাকা যৌক্তিক ও ঐতিহাসিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ।
ঐতিহ্যবাহী নাম বাদ, প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত
তিনি উল্লেখ করেন, কলেজটি হাইলজোর গ্রামে অবস্থিত, দরদরিয়া গ্রামে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদের বাড়ি থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরে। সরকারি হওয়ার আগেই এ কলেজের নাম ছিল ‘শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ ডিগ্রি কলেজ’ এবং সেই নামেই সরকারিকরণ হয়।
সোহেল তাজ বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ৯ মাসের মাথায় দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রীর নাম বাদ দিয়ে নতুন নাম দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে— এটা কিসের ইঙ্গিত?
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, কাপাসিয়ায় ইতোমধ্যেই একটি কলেজ রয়েছে যার নাম ‘কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ’। এখন একই নামে আরও একটি কলেজ থাকলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবে না কি?
ব্যক্তি অনুভব থেকে প্রতিবাদ
সোহেল তাজ নিজেকে কলেজটির প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে পরিচয় দিয়ে লেখেন,
আমি এতো কিছু জানি না, বুঝিও না, কিন্তু আমি এই কলেজের একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে গভীর কষ্ট পেয়েছি। এবং ব্যক্তিগতভাবে এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, ৫৪ বছরের ইতিহাসে কাপাসিয়ায় কলেজের নাম নিয়ে কখনও কোনো রাজনৈতিক বিতর্ক ছিল না। তাই এই হঠাৎ পরিবর্তনের পেছনে কারা, কী উদ্দেশ্য— তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

