দেশের ৬৫ হাজার বিদ্যালয় স্থবির, উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক আজ হতে পারে

নিজস্ব প্রতিবেদক
spot_img
spot_img

২৯ মে ২০২৫ — সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বেতন বৈষম্য নিরসনসহ তিন দফা দাবিতে চতুর্থ দিনের মতো পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করছেন। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের প্রায় ৬৫ হাজার বিদ্যালয়, আর পাঠচ্যুত অবস্থায় রয়েছে এক কোটির বেশি শিশু শিক্ষার্থী।

সংকট নিরসনে সরকারের উদ্যোগ
এই অচলাবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সক্রিয় হয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। আন্দোলনরত শিক্ষক সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দের তালিকা চেয়ে যোগাযোগ করেছে মন্ত্রণালয়। আজই প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর অথবা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে উপস্থিত থাকতে পারেন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. বিধান রঞ্জন রায় চৌধুরী।

তবে বৈঠকের সময় ও স্থান নির্ধারণ সংক্রান্ত কোনো চূড়ান্ত তথ্য এখনো জানানো হয়নি বলে জানিয়েছেন সহকারী শিক্ষক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ। তিনি বলেন, “আমরা তালিকা পাঠিয়েছি, তবে কোথায় ও কখন আলোচনা হবে— সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।”

কর্মসূচি স্থগিত নয়, আন্দোলন চলছেই
শামছুদ্দীন মাসুদ আরও জানান, “কোনো সুস্পষ্ট আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত আমরা কর্মসূচি স্থগিত করছি না। আজও পূর্ণদিবস কর্মবিরতি চলছে, এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তা চলবে।”

বিদ্যালয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থী, নেই শ্রেণি কার্যক্রম
রাজধানীর বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিন দেখা গেছে, বৃষ্টিপাত উপেক্ষা করেও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হয়েছে, কিন্তু পাঠদান হয়নি। শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে এলেও ক্লাসে না গিয়ে অফিসকক্ষে সময় কাটাচ্ছেন, আর শিক্ষার্থীরা আড্ডা দিয়ে সময় পার করছে।

আন্দোলনের পটভূমি
আন্দোলনের ধারাবাহিকতায়, গত ৫—১৫ মে পর্যন্ত এক ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করা হয়। এরপর ১৭ মে থেকে দুই ঘণ্টা, ২১—২৫ মে পর্যন্ত আধাবেলা, আর ২৬ মে থেকে শুরু হয় পূর্ণদিবস কর্মবিরতি।

শিক্ষকদের তিন দফা দাবি:
১. সহকারী শিক্ষক পদে ১১তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ, যাতে এ পদটি মূল ‘এন্ট্রি পদ’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
২. ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার জটিলতা দূর করা।
৩. প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ পদোন্নতির নিশ্চয়তা এবং পদোন্নতি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা।

সর্বশেষ নিউজ