কোরবানির ঈদ ঘিরে দেশের পশু অর্থনীতি ছাড়াতে পারে এক লাখ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
spot_img
spot_img

২০১৪ সালে ভারত সরকার বাংলাদেশে গরু রপ্তানি বন্ধ করার পর থেকেই ঘুরে দাঁড়ায় দেশের খামারিরা। দেশীয় উদ্যোগে গরু উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে আজ দেশের কোরবানির পশুর চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে দেশেই। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের (ডিএলএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ৮ লাখ ৮৭ হাজার ৫৪৪টি খামারে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১ কোটি ২৪ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৭টি পশু।

এবারের কোরবানির পশুর জোগানের প্রায় ৭০ শতাংশ আসবে রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগ থেকে। শুধু রাজশাহী বিভাগ থেকেই সরবরাহ হবে মোট পশুর ৩৫ শতাংশ, যা প্রায় ৪৩ লাখ ৪৪ হাজার। বিশ্লেষকদের ধারণা, সব মিলিয়ে এবারের কোরবানির পশু বিক্রির অর্থনীতি ছাড়িয়ে যেতে পারে এক লাখ কোটি টাকা।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাব বলছে, কোরবানির পশু বিক্রি থেকে আয় হতে পারে প্রায় ৬৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো থেকেই বিক্রি হতে পারে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি। ঈদের সময় চামড়া সংগ্রহের মৌসুমেও লক্ষাধিক পশুর চামড়া বাজারে আসে, যা মোট চাহিদার ৬০—৭০ শতাংশ।

খামারিদের সাফল্য ও স্থানীয় উদ্যোগ
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার সেতু ডেইরি ফার্মের মালিক সাজ্জাদ হোসেন সেতু জানান, তিনি ঈদের জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত করেছেন ১২টি গরু। এর আগের ঈদে ছয়টি গরু ভালো দামে বিক্রি করে তিনি এখন বাকি গরুগুলো বাজারে তোলার অপেক্ষায় আছেন। পাশাপাশি তিনি এআই (কৃত্রিম প্রজনন) কর্মী হিসেবেও কাজ করছেন, প্রতি মাসে ১৫০—২০০টি গাভিতে কৃত্রিম প্রজনন সম্পন্ন করেন।

তিনি জানান, মাঝারি ওজনের গরু বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকার মধ্যে, আর বড় আকারের গরু ১ লাখ ৭০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকায় পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। তাঁর মতে, দেশের খামারিরা এখন কোরবানির পশুর চাহিদা পূরণে সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত।

কৃত্রিম প্রজনন ও ব্রিড উন্নয়নে অগ্রগতি
গত অর্থবছরে দেশে প্রায় ৫৫ লাখ ৭৭ হাজার পশুতে কৃত্রিম প্রজনন করা হয়েছে, যার মধ্যে গাভি ও বকনাতে ৩৮ লাখ ৮১ হাজার। এসব কার্যক্রম থেকে বাছুর উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১৭ লাখ। ব্রিডিং বুল থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে ৪৫ লাখ ৪৭ হাজার ডোজ উন্নতমানের সিমেন।

নিরাপত্তা ও আমদানি নিয়ন্ত্রণ
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, দেশীয় পশুতেই এবার কোরবানির ঈদ সম্পন্ন হবে। সীমান্তপথে পশু অনুপ্রবেশ বন্ধে নেওয়া হয়েছে কঠোর ব্যবস্থা। হাটগুলোতেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে প্রশাসন। তাঁর মতে, স্থানীয় পর্যায়ে পশু উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানি প্রক্রিয়া প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে।

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিভঙ্গি
কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম খান মনে করেন, সরকার যে পশু চাহিদার হিসাব করছে, বাস্তবে তা আরও বেশি হতে পারে। তিনি বলেন, “প্রকৃত চাহিদা পূরণে পশুর মূল্য সহনীয় রাখা জরুরি। একই সঙ্গে উন্নত জাতের ব্রিড ও সিমেনের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে হবে।”

সর্বশেষ নিউজ