৬ মে ২০২৬, বুধবার

কুড়িগ্রামে হাড়কাঁপানো শীত, স্থবির জনজীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক
spot_img
spot_img

উত্তরের সীমান্তঘেঁষা জেলা কুড়িগ্রামে জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। তীব্র ঠান্ডা ও হিমেল বাতাসে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও নিম্নআয়ের মানুষ।

১৬টি নদ-নদীবেষ্টিত এই জেলায় শীতের শুরু থেকেই রাতভর ফোঁটায় ফোঁটায় ঝরে পড়ছে ঘন কুয়াশা। বিকেল থেকেই কুয়াশার দাপট শুরু হয়ে তা পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত স্থায়ী থাকছে। কয়েক দিন ধরে দেরিতে সূর্যের দেখা মেলায় কাজে বের হতে পারছেন না দিনমজুর ও শ্রমজীবীরা।

কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্যমতে, আজ শনিবার সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ, যা শীতের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বাসিন্দা নুরুর আমিন বলেন, ‘কাজ না করলে পেটে ভাত জোটে না। শীতের মধ্যেও কাজ করতে বের হতে হয়। কিন্তু ঠান্ডায় হাত-পা অবশ হয়ে আসে, শরীর কামড়ায়।’

মোগলবাসা ইউনিয়নের জুলকারনাইন তালুকদার বলেন, ‘অতিরিক্ত শীতে আমার ছোট সন্তান কয়েক দিন ধরে জ্বর, সর্দি ও কাশিতে ভুগছে। তাকে সদর হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

শীতের প্রভাব পড়েছে কৃষিতেও। ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের ব্যবসায়ী মতিউর রহমান বলেন, ‘এমন ঠান্ডা পড়লে বেগুনের আবাদে বড় ক্ষতি হবে। ধারদেনা করে চাষ করেছি। ফলন না হলে সর্বস্বান্ত হতে হবে।’

ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় কাজে যেতে পারছেন না দিনমজুরসহ খেটে খাওয়া মানুষ। এতে দৈনন্দিন আয় ব্যাহত হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যে।

সর্বশেষ নিউজ