৩ মে ২০২৬, রোববার

পছন্দের পোস্টিং নয়, পেশাদারিত্বই আসল: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
spot_img
spot_img

জনপ্রশাসনে কর্মকর্তাদের পছন্দের জায়গায় পোস্টিং পাওয়ার মানসিকতা ত্যাগ করে দেশের যেকোনো প্রান্তে সেবার ব্রত নিয়ে কাজ করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ রোববার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চার দিনব্যাপী ‘জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই নির্দেশ প্রদান করেন।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই প্রথম জেলা প্রশাসক সম্মেলন। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ের নিজ দফতর থেকে হেঁটে ওসমানী মিলনায়তনে যান এবং রাস্তার দুই পাশে থাকা নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।

পেশাদারিত্ব রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্বের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে একটি জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ার আহ্বান জানান। তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন:

  • পদ চিরস্থায়ী নয়: প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দেন যে, একটি সরকার যেমন চিরস্থায়ী নয়, প্রশাসনের কোনো পদও কারো জন্য চিরস্থায়ী নয়।

  • পছন্দের পোস্টিং ও দুর্নীতি: তিনি বলেন, শুধুমাত্র পছন্দের জায়গায় পোস্টিং পাওয়ার জন্য পেশাদারিত্বের সঙ্গে আপস করলে কর্মকর্তারা সাময়িকভাবে লাভবান হলেও, এটি দীর্ঘমেয়াদে প্রশাসনকে দুর্নীতিপ্রবণ ও অপেশাদার করে তোলে।

  • সব পদই গুরুত্বপূর্ণ: জনপ্রশাসনের প্রতিটি পদই রাষ্ট্র ও সরকারের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো স্থানে এবং যেকোনো পদে দায়িত্ব পালনের জন্য কর্মকর্তাদের মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, কর্মকর্তারা যেকোনো স্থানে কাজ করতে প্রস্তুত থাকলে তা পেশাদারিত্ব গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট

প্রধানমন্ত্রী জানান, এটি একটি নিয়মিত বাৎসরিক সম্মেলন হলেও বর্তমান সরকারের মেয়াদে প্রথম হওয়ায় এর গুরুত্ব অনেক। তাঁর মতে, সরকারের গৃহীত নীতিমালা এবং জনপ্রশাসন সম্পর্কে সরকারের কিছু পদক্ষেপ ও নির্দেশনা মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সামনে তুলে ধরাই এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য। আগামী ৬ মে পর্যন্ত এই সম্মেলন চলবে।

সম্মেলনের পরিসংখ্যান ও প্রস্তাবনা

গত শনিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হুমায়ুন কবিরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের সম্মেলনটি অত্যন্ত সুবিন্যস্তভাবে সাজানো হয়েছে:

  • সময়কাল: ৩ মে থেকে শুরু হয়ে ৬ মে পর্যন্ত চার দিনব্যাপী এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

  • অধিবেশন: সম্মেলনে মোট ৩৪টি অধিবেশন থাকছে, যার মধ্যে ৩০টিই হলো কার্য অধিবেশন।

  • অংশগ্রহণকারী: সম্মেলনে ৫৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সরাসরি অংশগ্রহণ করছে।

  • মাঠ পর্যায়ের প্রস্তাব: মাঠ প্রশাসন থেকে এবার মোট ১,৭২৯টি প্রস্তাব পাওয়া গেলেও সূক্ষ্ম বিচার-বিশ্লেষণ শেষে কার্যপত্রে ৪৯৮টি প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

  • শীর্ষ অগ্রাধিকার: এবারের সম্মেলনে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ সম্পর্কিত প্রস্তাব সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে, যা সরকারের জনস্বাস্থ্য খাতের গুরুত্বকে প্রতিফলিত করে।

আলোচ্য বিষয় ও দিকনির্দেশনা

সম্মেলনে ৫৬টি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাগণ জেলা প্রশাসকদের নিজ নিজ দপ্তরের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবেন। চার দিনব্যাপী এই আলোচনার প্রধান বিষয়বস্তুগুলো হলো: ১. ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা। ২. সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা। ৩. নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অবকাঠামো উন্নয়ন। ৪. ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়ন, শিক্ষা খাতের উন্নয়ন ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ।

উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। মূলত মাঠ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে সরকার পরিচালনার মূল দর্শন ও দিকনির্দেশনা পৌঁছে দিতেই এই বিশাল কর্মযজ্ঞের আয়োজন করা হয়েছে।

সর্বশেষ নিউজ