মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের জেরে চরম অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে ইরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৩ এপ্রিল থেকে ওমান উপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় শুরু হওয়া মার্কিন নৌ-অবরোধের কারণে ইরান এ পর্যন্ত প্রায় ৪.৮ বিলিয়ন (৪৮০ কোটি) ডলারের তেল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী এ পর্যন্ত ৪০টিরও বেশি তেল ও অন্যান্য পণ্যবাহী জাহাজকে ফিরিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে উপসাগরীয় এলাকায় প্রায় ৩১টি তেলবাহী ট্যাংকার আটকে আছে, যেগুলোতে অন্তত ৫ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রয়েছে।
এই বিপুল পরিমাণ তেলের আনুমানিক বাজারমূল্য কমপক্ষে ৪.৮ বিলিয়ন ডলার। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এর মধ্যে দুটি জাহাজ ইতোমধ্যে জব্দ করা হয়েছে।
স্টোরেজ সংকট ও বিকল্প রুট
স্থলভাগের তেল মজুতগার বা স্টোরেজগুলো ইতোমধ্যেই পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় ইরান এখন পুরোনো ট্যাংকারগুলোকে ভাসমান স্টোরেজ (Floating Storage) হিসেবে ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে। পাশাপাশি, মার্কিন সামরিক নজরদারি এড়াতে কিছু জাহাজ পাকিস্তান ও ভারতের উপকূল ঘেঁষে তুলনামূলক দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল রুট ব্যবহার করে চীনের দিকে তেল পাঠানোর চেষ্টা করছে।
সংকট পরিস্থিতি বিশ্লেষণে ইউরেশিয়া গ্রুপের বিশেষজ্ঞ গ্রেগরি ব্রু অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, “ইরান সম্ভবত আর কয়েক সপ্তাহ থেকে সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যেই চরম স্টোরেজ সংকটে পড়তে যাচ্ছে।”
অন্যদিকে, ট্যাংকার ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠান ‘ট্যাংকার ট্র্যাকার্স’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা সামির মাদানি মনে করেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে এবং পাকিস্তান সীমান্তের কাছে স্টোরেজ পূর্ণ হয়ে গেলে, ইরানি ট্যাংকারগুলো রাতের অন্ধকারে একযোগে অবরোধ ফাঁকি দিয়ে পালানোর চেষ্টা করতে পারে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের প্রতিক্রিয়া
মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের (পেন্টাগন) ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র জোয়েল ভালদেজ এই অবরোধকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সফলতা হিসেবে দাবি করে বলেছেন, “এই অভিযানটি ইরান সরকারের অর্থায়ন এবং সক্ষমতায় একটি বিধ্বংসী আঘাত হানছে।”
(উল্লেখ্য, অ্যাক্সিওস-এর এই পরিসংখ্যান ও দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।)

