পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দীর্ঘ ১৫ বছরের ‘মমতা যুগের’ যবনিকা ঘটল। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সন্ধ্যায় এক নাটকীয় সিদ্ধান্তে রাজ্যের বিধানসভা ভেঙে দিয়েছেন রাজ্যপাল আর এন রবি। এর মাধ্যমে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার মন্ত্রিসভার সাংবিধানিক অস্তিত্বের অবসান হলো।
বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই রাজভবন থেকে এই নির্দেশ জারি করা হয়। ভারতের সংবিধানের ১৭৪ অনুচ্ছেদের ২ নম্বর ধারার (খ) উপধারা অনুযায়ী প্রাপ্ত ক্ষমতাবলে রাজ্যপাল এই সিদ্ধান্ত নেন। ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। এই অনড় অবস্থানের ফলে সৃষ্ট সাংবিধানিক সংকট নিরসনেই রাজ্যপাল এই কঠোর পদক্ষেপ নিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রশাসনিকভাবে বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার অর্থ হলো—বর্তমান সরকার আর ক্ষমতায় নেই। যদিও রাজ্যপাল মমতাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরখাস্ত করেননি, তবে তাকে নতুন সরকার গঠন পর্যন্ত ‘তদারকি মুখ্যমন্ত্রী’ হিসেবেও দায়িত্ব দেননি। ফলে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেওয়ার আগ পর্যন্ত রাজ্যের শাসনভার কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আগামী শনিবার বিজেপির নতুন সরকার শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে। এর মাধ্যমেই পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো শুরু হতে যাচ্ছে পদ্ম শিবিরের শাসন।

