৪ মে ২০২৬, সোমবার

সবাই মিলে দেশটাকে এগিয়ে নিতে হবে

জহিরুল হক রানা
spot_img
spot_img

সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা সোনার বাংলা, আমাদের এই বাংলাদেশ। আমরা সবাই আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমি স্বাধীন সার্বভৌম দেশটাকে ভালবাসি। ভালবাসি এই জনপদের মানুষগুলোকে। স্বাধীনতার পঞ্চান্ন বছরেও আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। আর পিছনে থাকতে চাই না। যে সুবর্ণ সুযোগ এসেছে, তাকে কাজে লাগি আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই। আমরা চাই এদেশের সরকার, বিরোধী দল, সামরিক-বেসামরিক আমলা, ব্যবসায়ী, বিচারপতি, কৃষক-শ্রমিক, ছাত্র-জনতা সবাই যার যার জায়গা থেকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং দেশের জন্য কাজ করবেন। বিশেষত সরকারকে অবশ্যই দায়িত্বশীল, দেশপ্রেমিক ও জনকল্যাণমুখী হতে হবে।

দেশের মূল চালিকাশক্তি সরকার। দেশে যদি গণতন্ত্র না থাকে, সরকার যদি সঠিকভাবে পরিচালিত না হয়, দুর্নীতিগ্রস্ত হয়, মানুষের মনের কথা না বুঝে ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠে তাহলে দেশের অবস্থা কি হয় তা আমরা ইতোপূর্বে দেখেছি। দেখেছি শেখ হাসিনা তথা আওয়ামী লীগ সরকারের দুঃশাসন। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর ছাত্র-জনতা-শ্রমিককে গত বছরের ৫ আগষ্ট আরেকটি বিপ্লব করে, অনেক ত্যাগের বিনিময়ে, অনেক রক্ত দিয়ে বিগত সরকারের পতন ঘটাতে হয়েছে। অতঃপর নোবেল বিজয়ী ডঃ মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে বহুদিন পরে জনগণের ভোটে একটি জনগণের (গণতান্ত্রিক) সরকার নির্বাচিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনেকগুলি ভালো কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। এর মধ্যে তার খালকাটা কর্মসূচি,  কৃষক  কার্ড বিতরণ, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ উল্লেখযোগ্য। ক্ষমতায় আরোহণের পরপরই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এই সরকারটিকে বিপদে ফেলে দিয়েছে। শুরু হয়েছে তেল-গ্যাস ও অন্যান্য সংকট। নিত্য পণ্যের দাম জনগণের হাতের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির তেমন উন্নতি দেখা যাচ্ছে না। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রশ্নে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক সংকট। আড়াই মাস বয়সী এই সরকারটি বেশ বেকায়দায় রয়েছে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।

আমরা বারংবার অনেক ত্যাগ স্বীকার করি, সরকার বদল করে নতুন সরকার আনি। কিন্তু আমাদের ভাগ্যটাই বদলায়না। আমরা এদেশের দুর্ভাগা মানুষের কথা বলছি। কিছু মানুষের ভাগ্য তো অবশ্যই বদলায়। তারা কেউ সাধারণ মানুষ নন। সরকারের অতি কাছাকাছি থাকা বিশেষ চরিত্রের, বিশেষ বৈশিষ্ট্যের মানুষ। তাদের কথা আলাদা।

সরকার মানুষের ভাগ্যের উন্নতির কথা বলে সরকারে আসে। আমলারা চেয়ারে বসে জনগণের সেবার কথা বলে। বিচারপতি  চেয়ারে বসেন ন্যায় বিচারের কথা বলে। ব্যবসায়ীরা ব্যবসার নামে নিজের ভাগ্য বদলের পাশাপাশি জনগণের কষ্ট লাঘবের জন্য। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেউ কথা রাখে না। দিনে দিনে বাড়ে মানুষের দেনা, কষ্ট, দুঃখ- দুর্দশা। ন্যায়বিচার থেকে হয় বঞ্চিত।

অন্তর্বর্তী সরকার অনেকগুলি ভালো কাজ করার পাশাপাশি কিছু খারাপ কাজ করেছে বলে আলোচনায় আছে‌। এর মধ্যে অন্যতম, গত বছরের ৯ই ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে। এই চুক্তির ব্যাপারে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি অবহিত বলে বলা হচ্ছে। চুক্তিটির পোশাকি নাম এগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি)। সমালোচকরা বলছেন, এটি একটি অসম চুক্তি এবং এতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যুক্তরাষ্ট্র তার বাণিজ্য ঘাটতি দূর করার অজুহাতে এই চুক্তিতে একতরফা সুবিধা ও কর্তৃত্ব নিশ্চিত করেছে। বাংলাদেশের উপর চাপিয়ে দিয়েছে শুল্ক ও শুল্ক বহির্ভূত নানা অসম শর্ত।

তাছাড়া এর আগের সরকারগুলো ভারতের সঙ্গে অনেকগুলো গোপন যুক্তি করেছে বলে আলোচনা রয়েছে। আমরা মনে করি জনস্বার্থে দেশের সাথে এইসব গোপন চুক্তি সকলের সামনে প্রকাশ করতে হবে এবং এর মধ্যে যে চুক্তিগুলো দেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থ বিরোধী সেগুলো অবশ্যই বাতিল করতে হবে।

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পরে অনেকগুলি রাষ্ট্র স্বাধীনতা লাভ করেছে। অবশ্য দক্ষিণ কোরিয়া ১৯৭৬ ও ভিয়েতনাম ১৯ ৮৫ সালে স্বাধীনতা লাভ করেছে। স্বাধীনতা লাভের পর অনেক দেশ, বিশেষ করে আমাদের পরে স্বাধীনতা লাভ করে কোরিয়া ও ভিয়েতনাম  বহুদূর এগিয়ে গেছে। দুর্ভাগ্য আমাদের আমরাই পরে রইলাম অনেক পেছনে,স্বাধীনতার লাভের ৫৫ বছর পরেও।

আমাদের মধ্যে সবাই খারাপ নয়, আছেন অনেক ভালো মানুষ, সাদা মনের মানুষ।আসুন আমরা সবাই মিলে দেশটাকে ভালোবাসি, এগিয়ে নিয়ে যাই, মাথা উঁচু করে দাঁড়াই বিশ্ব দরবারে। এ জন্য সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে এক যোগে কাজ করতে হবে, সকল ভেদাভেদ ভুলে, অন্তত দেশ মাতৃকার অগ্রগতি ও উন্নয়নে আমাদের মধ্যে কোন বিভক্তি থাকবে না। এই হোক আমাদের আজকের প্রতিজ্ঞা ও প্রত্যাশা।

সর্বশেষ নিউজ