৭ মে ২০২৬, বৃহস্পতিবার

নেত্রকোণায় ধর্ষণে ১১ বছরের মাদরাসা ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা, ‘সত্য বলায়’ চিকিৎসককে হত্যার হুমকি

নিজস্ব প্রতিবেদক
spot_img
spot_img

নেত্রকোণার মদন উপজেলায় ধর্ষণের শিকার হয়ে ১১ বছরের এক মাদরাসা ছাত্রীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার সত্যতা প্রকাশ করায় এক নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঘটনার সূত্রপাত ও ডাক্তারি পরীক্ষা: পারিবারিক বিচ্ছেদের কারণে ভুক্তভোগী শিশুটি তার নানির কাছে থেকে স্থানীয় একটি মাদরাসায় পড়াশোনা করত। তার মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। সম্প্রতি শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে স্থানীয় একটি বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত সরকারি চিকিৎসক ডা. সায়মা আক্তার আলট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে নিশ্চিত হন যে, ১১ বছরের ওই শিশুটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

চিকিৎসককে হুমকি ও নিরাপত্তাহীনতা: ঘটনার ভয়াবহতা দেখে ডা. সায়মা আক্তার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। এরপর থেকেই তাকে লক্ষ্য করে শুরু হয় আক্রমণ। এক ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, সত্য প্রকাশের পর থেকে তাকে অনলাইনে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, সাইবার বুলিং এবং এমনকি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

ডা. সায়মার স্বামী মো. আসিফুল ইসলাম জানান, গণমাধ্যমে কথা বলার পর হুমকির মাত্রা আরও বেড়েছে। পেশাগত ক্ষতির ভয়ও দেখানো হচ্ছে তাদের। বর্তমানে এই চিকিৎসক দম্পতি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অভিযুক্ত গ্রেপ্তার ও পুলিশের পদক্ষেপ: জানা গেছে, ওই মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আমান উল্লাহ সাগর শিশুটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছেন। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত পক্ষ মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছিল। তবে চিকিৎসকের দৃঢ় অবস্থানের কারণে তা সম্ভব হয়নি।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগী শিশুটির মা বাদী হয়ে মদন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর অভিযুক্ত আমান উল্লাহ সাগর আত্মগোপনে চলে গেলেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সর্বশেষ নিউজ