১২ মে ২০২৬, মঙ্গলবার

এসওয়াতিনিতে আফ্রিকা-ইউরোপের মেগা সম্মেলন: বদলে যাচ্ছে বৈশ্বিক কূটনীতির সমীকরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
spot_img
spot_img

আফ্রিকা ও ইউরোপের সম্পর্ককে দাতা-গ্রহীতা কাঠামো থেকে বের করে সমান অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে দাঁড় করাতে দক্ষিণ আফ্রিকার ছোট রাজতান্ত্রিক দেশ এসওয়াতিনিতে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক সম্মেলন। প্রথমবারের মতো আফ্রিকা-ইইউ পার্লামেন্টারি অ্যাসেম্বলির পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে ইউরোপের বাইরে, আফ্রিকার মাটিতে।

সম্মেলনের একনজরে:

অংশগ্রহণকারী: আফ্রিকার ৭৯টি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশসহ মোট ১০৬টি দেশের সংসদ সদস্য ও প্রতিনিধিরা।
সময়কাল: ১২ থেকে ১৪ মে।
স্থান: এসওয়াতিনির (সাবেক সোয়াজিল্যান্ড) এজুলউইনি পালাজো কনভেনশন সেন্টার।
উদ্বোধন ও সভাপতিত্ব: উদ্বোধন করেছেন এসওয়াতিনির প্রধানমন্ত্রী রাসেল মিসো ডলামিনি। সহ-সভাপতিত্ব করছেন বেলজিয়ামের ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য হিল্ডে ভাউটমানস এবং বেনিনের সংসদ সদস্য ডেভিড হাউইনসা।

আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে যা থাকছে: ১. কৌশলগত খনিজ সম্পদ: বৈদ্যুতিক গাড়ি, ব্যাটারি ও এআই প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় লিথিয়াম, কোবাল্ট ও ম্যাঙ্গানিজ নিয়ে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা। ২. আঞ্চলিক নিরাপত্তা: সুদান, পূর্ব কঙ্গো, সাহেল অঞ্চল ও সোমালিয়ার সংঘাত এবং এর প্রভাবে অভিবাসন ও সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি। ৩. যুবাদের চলাচল ও কর্মসংস্থান: আফ্রিকার তরুণদের শুধু অভিবাসনের চাপ হিসেবে নয়, ভবিষ্যৎ শ্রমশক্তি হিসেবে দেখা। ৪. বহুপাক্ষিক কূটনীতি ও নারী: কৃষিতে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতের কূটনীতির গতিপথ নির্ধারণ।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের শিল্প ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য আফ্রিকার সম্পদ এবং তরুণ জনগোষ্ঠী ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ২০২৩ সালে স্বাক্ষরিত ‘সামোয়া চুক্তি’-এর অধীনে গঠিত এই জোটের মাধ্যমে ইউরোপ আফ্রিকায় নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করতে চাইছে। ছোট দেশ এসওয়াতিনিকে আয়োজক হিসেবে বেছে নেওয়ার মাধ্যমে আফ্রিকার কূটনৈতিক মানচিত্রকে আরও বিস্তৃত করার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, আফ্রিকা কি এবার সত্যিই নিজের কৌশলগত গুরুত্বকে কাজে লাগাতে পারবে, নাকি আগের মতোই বড় শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার মাঠ হয়ে থাকবে?

সর্বশেষ নিউজ