নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি পোশাক কারখানার স্টোর রুম থেকে ইদ্রিস আলী (৪৩) নামের এক সহকারী মহাব্যবস্থাপকের (এজিএম) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে ফতুল্লার এনায়েতনগর ইউনিয়নের বারৈভোগ এলাকায় অবস্থিত ফারিহা নিট টেক্স লিমিটেড কারখানার স্টোর রুম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে কারখানার সামনে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা।
নিহত ইদ্রিস আলী সোনারগাঁ উপজেলার গোয়ালদী এলাকার বাসিন্দা এবং ওই কারখানায় এজিএম হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম জানান, সকালে কারখানার এক শ্রমিক স্টোর রুমে ইদ্রিস আলীর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে কর্তৃপক্ষকে জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, সোমবার সন্ধ্যায় অফিস শেষে ইদ্রিস আলীর বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু তাকে না পেয়ে সহকর্মীরা একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরদিন সকালে যে স্টোররুম থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, সেটির দায়িত্বও তার ওপরই ন্যস্ত ছিল।
এদিকে, নিহতের স্ত্রী হাফিজা আক্তারের দাবি, তার স্বামী নিয়মিত নামাজ পড়তেন এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করতেন। তিনি কোনোভাবেই আত্মহত্যা করতে পারেন না। সোমবার রাতে স্বামীর খোঁজ না পেয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে জানানো হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কারখানা থেকে বলা হয়েছিল উনি সেখানে নেই। সকালে শুনি স্টোর রুমে মরদেহ পাওয়া গেছে। বিষয়টি পুরোপুরি রহস্যজনক।”
মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে কারখানার শ্রমিক ও সহকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা অভিযোগ করেন, হত্যার পর মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এর প্রতিবাদে এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে তারা কারখানার সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
পরিস্থিতি সম্পর্কে ওসি মাহবুব আলম বলেন, শ্রমিকদের বিক্ষোভের কারণে পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও পরে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

