গণপূর্ত ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রশি টানাটানি আর আমলাতান্ত্রিক বেড়াজালে আটকে আছে খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতালের উদ্বোধন। নির্মাণকাজ শেষ প্রায় দুই বছর। ৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিশাল অবকাঠামোটি এই অঞ্চলের লাখো শিশুর সুচিকিৎসায় কোনো কাজে আসছে না।
দেশের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক কঠোর নির্দেশনার পর দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থা কাটতে শুরু করেছে। নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন, হাসপাতালটি চালুর জোর তৎপরতা।
জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরপরই সোমবার খুলনার গণপূর্ত নির্বাহী প্রকৌশলী এবং বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক সশরীরে সোনাডাঙ্গা বাইপাস রোড সংলগ্ন হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন আর কোনো অজুহাত নয়, দ্রুততম সময়ে হাসপাতালটি জনগণের সেবায় উন্মুক্ত করাই মূল লক্ষ্য।
নগরীর সোনাডাঙ্গা বাইপাস রোডের ময়ূরী আবাসিকের বিপরীতে প্রয় পাঁচ একর জমির ওপর নির্মিত দৃষ্টিনন্দন ছয়তলা ভবনটির কাজ ২০২৪ সালের জুন মাসেই সম্পন্ন হয়েছে। তবে সীমানা প্রাচীর ও প্রধান ফটক অসম্পূর্ণ থাকার অজুহাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ভবনটি গ্রহণে অনীহা দেখিয়ে আসছিল। অন্যদিকে, গণপূর্তের দাবি ছিল পর্যাপ্ত বাজেট না থাকায় ছোটখাটো কিছু কাজ থমকে আছে। দুই দপ্তরের এই ‘ঠেলাঠেলি’তে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাখো শিশুর আধুনিক চিকিৎসার স্বপ্ন যেমন থমকে গেছে, তেমনি দীর্ঘ সময় অব্যবহৃত থাকায় নষ্ট হচ্ছে সরকারি অর্থের বিপুল বিনিয়োগ ও ভবনের মূল্যবান সরঞ্জাম।
এদিকে খুলনায় বর্তমানে বেসরকারিভাবে একটি শিশু হাসপাতাল চালু থাকলেও সাধারণ মানুষের জন্য তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সেখানে রোগীর প্রচণ্ড চাপ থাকে। সরকারি এই বৃহৎ প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে প্রায় ২০০ জনবলের কর্মসংস্থান হবে।

