মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার একই পরিবারের চার ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার (১৩ মে ২০২৬) রাতে ওমানের মুলাদ্দাহ এলাকায় একটি পার্ক করা গাড়ির ভেতর থেকে তাঁদের লাশ উদ্ধার করা হয়। ওমানে ৪ প্রবাসী ভাইয়ের মৃত্যু-র এই খবর ছড়িয়ে পড়লে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নে শোকের ছায়া নেমে আসে।
নিহত চার ভাইয়ের পরিচয়
নিহতরা হলেন—মুহাম্মদ রাশেদ, মুহাম্মদ সাহেদ, মুহাম্মদ সিরাজ ও মুহাম্মদ শহিদ। তাঁরা রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বন্দারাজার পাড়া এলাকার বাসিন্দা। জীবিকার তাগিদে চার ভাই-ই ওমানে প্রবাসী ছিলেন।
কেনাকাটা সেরে দেশে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন দুই ভাই
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত চার ভাইয়ের মধ্যে দুজনের আগামী শুক্রবার (১৫ মে) দেশে ফেরার কথা ছিল। সেই উপলক্ষে তাঁরা কেনাকাটা করতে চার ভাই একসঙ্গে একটি গাড়ি নিয়ে বের হয়েছিলেন। কিন্তু আনন্দের সেই প্রস্তুতি মূহুর্তেই বিষাদে পরিণত হয় যখন ওমানের মুলাদ্দাহ এলাকায় একটি ক্লিনিকের সামনে তাঁদের লাশ পাওয়া যায়।
মৃত্যুর আগে সেই শেষ ভয়েস মেসেজ ও লোকেশন
চট্টগ্রাম সমিতি, ওমানের সভাপতি মো. ইয়াসিন চৌধুরী জানান, বুধবার সন্ধ্যায় চার ভাই ওমানের বারকা এলাকায় ছিলেন এবং সেখান থেকে মুলাদ্দাহর দিকে রওনা হন। রাত আটটার পর তাঁদের একজন বারকায় থাকা এক স্বজনকে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে জানান যে তাঁরা খুব অসুস্থ বোধ করছেন এবং গাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না। তাঁরা যেখানে ছিলেন, সেখানকার লোকেশনও পাঠানো হয়েছিল। পরে দুই প্রবাসী বাংলাদেশি পার্ক করা গাড়ির ভেতর তাঁদের অচেতন অবস্থায় দেখে পুলিশে খবর দেন। ধারণা করা হচ্ছে, অসুস্থ বোধ করায় চিকিৎসা নিতেই তাঁরা ক্লিনিকটির সামনে গিয়েছিলেন।
বিষাক্ত গ্যাসের বিষক্রিয়াকে দায়ী করা হচ্ছে
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গাড়ির এসি বা অন্য কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ভেতরে কোনো বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়েছিল। এই গ্যাসে শ্বাসরোধ হয়ে বা বিষক্রিয়ায় তাঁদের মৃত্যু হতে পারে। তবে ওমানে ৪ প্রবাসী ভাইয়ের মৃত্যু-র সঠিক কারণ জানতে লাশগুলো বর্তমানে ময়নাতদন্তের জন্য রাখা হয়েছে।
রাঙ্গুনিয়ায় শোকের মাতম ও প্রশাসনের বক্তব্য
লালানগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আমির হোসেন জানান, একসঙ্গে চার ভাইয়ের মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের মাতম চলছে। স্বজনরা দ্রুত লাশ দেশে আনার দাবি জানিয়েছেন। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তাঁরা খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

