চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় স্থানীয় রাজনীতিতে এক বড় ধরনের চমক ও নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আদর্শ ও কর্মসূচির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে দলটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন মতলব দক্ষিণ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার ও বর্তমান আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মো. জসিমউদ্দীন প্রধান। গতকাল শনিবার (১৬ মে ২০২৬) রাতে মতলব কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এক যুব ও সুধী সমাবেশে তিনি এই আনুষ্ঠানিক যোগদান সম্পন্ন করেন।
এক নজরে সদ্য যোগদানকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রোফাইল:
| বিষয়ের নাম | বিস্তারিত তথ্য |
| নাম | বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মো. জসিমউদ্দীন প্রধান |
| বর্তমান পদ | আহ্বায়ক ও কমান্ডার, মতলব দক্ষিণ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ |
| দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ | ১৯ আগস্ট ২০২৫ থেকে বর্তমান |
| যোগদানের মাধ্যম | সহযোগী সদস্য ফরম পূরণ |
| যোগদানের স্থান | মতলব কমিউনিটি সেন্টার (যুব ও সুধী সমাবেশ) |
সুধী সমাবেশে সহযোগী ফরম পূরণ ও ফুল দিয়ে বরণ
উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত ওই সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি এবং চাঁদপুর-২ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. আবদুল মোবিন। সমাবেশে জামায়াত নেতাদের হাতে ফুল দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মো. জসিমউদ্দীন প্রধান দলটিতে অন্তর্ভুক্ত হন এবং সমাবেশ স্থলেই জামায়াতের সহযোগী সদস্য ফরম পূরণ করেন।
মতলব পৌরসভার সেক্রেটারি মো. কবির হোসেন দেওয়ান ও যুব বিভাগের সেক্রেটারি মো. ইদ্রিস খানের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি হারুন অর রশিদ ওসমানী, মতলব দক্ষিণ উপজেলা জামায়াতের আমির মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ পাটওয়ারী এবং পৌর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন প্রধানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
“কোরআন-সুন্নাহর ভিত্তিতে রাষ্ট্র দেখতে চাই”
জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানের পর নিজের অনুভূতি ও রাজনৈতিক অবস্থান ব্যক্ত করে বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মো. জসিমউদ্দীন প্রধান বলেন, “আল্লাহর আইন ও কোরআন-সুন্নাহর ভিত্তিতে এই দেশ ও রাষ্ট্র পরিচালিত হোক—মূলত এই গভীর প্রত্যাশা থেকেই আমি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছি। এর আগে আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত ছিলাম না। আমার দীর্ঘ জীবনে আমি কোনো ধরণের অন্যায়ের সাথে আপস করিনি। আমি চাই ভবিষ্যৎ ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে যেন পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর ওপর অবিচল থাকতে পারি।”
স্থানীয় রাজনীতিতে ইতিবাচক প্রভাবের আশা জামায়াতের
সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে জামায়াতের শীর্ষ নেতারা বলেন, দেশ ও সমাজ গঠনে এবং একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে আদর্শিক ও মানবিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। আর এই লক্ষ্য অর্জনে সমাজের সকল শ্রেণিপেশার মানুষের অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক। তারা অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে আশা প্রকাশ করেন যে, জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিলেন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার-এর মতো একজন সৎ ও দেশপ্রেমিক ব্যক্তিত্বের এই অন্তর্ভুক্তি স্থানীয় রাজনীতিতে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে জামায়াতের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে অত্যন্ত ইতিবাচক ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে।

