জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী পালনে বিএনপির ৮ দিনের কর্মসূচি

অনলাইন ডেস্ক
spot_img
spot_img

জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালনে ৭ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে তার দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি।

মঙ্গলবার দুপুরে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দল ও অঙ্গসংগঠনের যৌথসভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই কর্মসূচির কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, আগামী ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত বিএনপি নানা ধরনের কর্মসূচি রেখেছে।

এবার এমন সময়ে বিএনপি দলের প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কর্মসূচি পালন করতে চলেছে, যখন দুই দশক বাদে দলটি দেশ পরিচালনা করছে। চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় দেশের একাদশ প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন তার ছেলে তারেক রহমান।

রিজভী বলেন, ‘‘মহান যুগ স্রষ্টা এবং আমাদের মুক্তিযুদ্ধের এক বীর সেনানি সেক্টার কমান্ডার স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তার স্মৃতিকে আমরা বার বার স্মরণ করি। তার স্মৃতি আমাদের কাছে সব সময় জাগরুক, দেশের মানুষের কাছে জাগরুক।

‘‘তার শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত ৭ দিনব্যাপী কর্মসূচি আমরা গ্রহণ করেছি। এর মধ্যে ঈদুল আযহা পড়বে…এজন্য কোনো অঙ্গসংগঠন যদি আলোচনা সভা দুই-একদিন পরেও করে অসুবিধা নেই। তবে আমাদের কর্মসূচি ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত চলবে।”

কর্মসূচির মধ্যে আছে, ৩০ মে বেলা ১১টায় শেরে বাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন। প্রধানমন্ত্রী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে জ্যেষ্ঠ নেতারা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন এবং তারা উলামা দলের আয়োজিত দোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন।

পরদিন ৩১ মে বেলা ২টায় রমনার ইনঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিশন মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে

জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনগুলো পোস্টার প্রকাশ এবং আলোচনা সভা করবে।

দিবসটি উপলক্ষে ৩০ মে ভোরে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অধনমিতকরণ এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে বলে জানিয়েছেন রিজভী।

ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণের উদ্যোগে বিভিন্ন থানায় দুঃস্থদের মধ্যে চাল-ডালসহ ও বস্ত্র বিতরণ করা হবে।

এছাড়া জেলা,মহানগর, উপজেলাসহ সকল ইউনিটে জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা, দুঃস্থদের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হবে।

১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে একদল সেনা সদস্য। এরপর সেনাপ্রধান হন জিয়াউর রহমান।

ওই বছরের ৭ নভেম্বর ‘সিপাহি-জনতার বিপ্লবের’ পর রাষ্ট্রপতি বিচারপতি এএসএম সায়েমের নেতৃত্বে উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এবং ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে তিনি ক্ষমতা গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন ১৯৭৮ সালের ২১ এপ্রিল।

১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে এক দল সৈন্যের গুলিতে নিহত হন প্রেসিডেন্ট জিয়া।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরাফত আলী সপু, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, মুনির হোসেন, তারিকুল আলম তেনজিং, মহানগর বিএনপির এসএম জাহাঙ্গীর, স্বেচ্ছাসেবক দলের এসএম জিলানি, যুব দলের নুরুল ইসলাম নয়ন, মুক্তিযোদ্ধা দলের ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, ছাত্র দলের নাসির উদ্দীন নাছির, জাসাসের হেলাল খান, জাকির হোসেন রোকন, তাঁতী দলের আবুল কালাম আজাদ, শ্রমিক দলের মনজুরুল ইসলাম মনজু, উলামা দলের মো. সেলিম রেজা, কাজী মোহাম্মদ আবুল হোসেন, মহিলা দলের শাহিনুর নার্গিস, কৃষক দলের রফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতারা ছিলেন।

সর্বশেষ নিউজ