কুষ্টিয়ায় বজ্রপাতে কৃষক নিহত, ধানের মাঠে প্রাণ গেল বাবার: আহত আরও ৩

ন্যাশনাল ডেস্ক
spot_img
spot_img

কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে মাঠের কাটা ধানের আঁটি গোছাতে গিয়ে বজ্রপাতে হজরত আলী প্রামাণিক (৪৫) নামের এক কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার জয়ন্তী হাজরা গ্রামে এই বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। একই সময়ে উপজেলার পৃথক পৃথক স্থানে বজ্রপাতের আঘাতে ১০ বছরের এক শিশুসহ আরও ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

নিহত কৃষক হজরত আলী জয়ন্তী হাজরা গ্রামের মৃত আক্কেল আলী প্রামাণিকের ছেলে। এ ঘটনায় আহতরা হলেন—শিমুলিয়া ইউনিয়নের কালিশংকরপুর গ্রামের ১০ বছরের শিশু অন্তরা, বিলজানি গ্রামের ডলি খাতুন (২০) এবং হলুদবাড়িয়া গ্রামের সমা পারভিন (২৫)। আহত ৩ জনই বর্তমানে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ধানের আঁটি স্তূপ করতে গিয়েই ধেয়ে এল বজ্র

পারিবারিক ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে হঠাৎ আকাশে কালো মেঘের ঘনঘটা দেখে নিজের কষ্টের ফসল রক্ষা করতে মাঠে ছুটে গিয়েছিলেন কৃষক হজরত আলী। জমিতে কেটে রাখা ধানের আঁটিগুলো যাতে বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট না হয়, সেজন্য তিনি দ্রুত সেগুলো স্তূপ করে সাজাচ্ছিলেন।

কাজ করার একপর্যায়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে হঠাৎ বৃষ্টির সঙ্গে প্রচণ্ড শব্দে বজ্রপাত শুরু হয়। একটি শক্তিশালী বজ্রপাত সরাসরি ধানের জমিতে পড়লে হজরত আলী ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। পরে মাঠের অন্য কৃষকেরা ছুটে এসে তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।

বাবার লাশের পাশে দুই শিশুর আহাজারি

কর্তব্যরত চিকিৎসক যখন হজরত আলীকে মৃত ঘোষণা করেন, তখন হাসপাতালের জরুরি বিভাগের বারান্দায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। বাবার আকস্মিক মৃত্যুর খবর শুনে হাসপাতালে ছুটে আসে তাঁর দুই শিশু সন্তান কুলসুম ও বাবন প্রামাণিক। বাবন স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। হাসপাতালের ট্রলিতে বাবার নিথর লাশের পাশে দুই অবুঝ শিশুর বুকফাটা আর্তনাদ ও আহাজারিতে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মী, চিকিৎসক ও স্থানীয়দের চোখে জল চলে আসে। দুই শিশুর কান্নায় এক চরম ভারী পরিবেশের সৃষ্টি হয় পুরো হাসপাতাল জুড়ে।

এলাকায় শোকের ছায়া, সতর্ক থাকার পরামর্শ

খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শারমিন আকতার রিমা বলেন, “কুষ্টিয়ায় বজ্রপাতে কৃষক নিহত হওয়ার ঘটনায় ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনার আগেই তিনি মারা গিয়েছিলেন। তবে বজ্রপাতে আহত বাকি ৩ জনকে আমরা হাসপাতালে ভর্তি রেখেছি। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং বর্তমানে তারা আশঙ্কামুক্ত।”

জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সকিব খান টিপু গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, “হজরত আলী অত্যন্ত সহজ-সরল ও পরিশ্রমী একজন মানুষ ছিলেন। মাঠের ধান ঘরে তোলার আগেই তাঁর এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আমরা ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি।” একই সাথে তিনি বৈশাখী ঝড়ের এই সময়ে বজ্রপাত থেকে বাঁচতে সাধারণ কৃষক ও এলাকাবাসীকে খোলা মাঠে না থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার অনুরোধ জানান।

সর্বশেষ নিউজ