জুলাইয়ের মধ্যে মিডিয়া কমিশন গঠনের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে পেশ করা হবে: তথ্যমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট
spot_img
spot_img

দেশের গণমাধ্যম জগতের আধুনিকায়ন, সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা এবং অপসাংবাদিকতা রোধে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই বহুল প্রতীক্ষিত ‘মিডিয়া কমিশন’ গঠনের চূড়ান্ত প্রস্তাবনা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে উপস্থাপন করা হবে। আজ মঙ্গলবার (১৯ মে ২০২৬) সকালে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

তথ্যমন্ত্রী জানান, গণমাধ্যমের সামগ্রিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং সাংবাদিক ও মিডিয়া মালিকদের পারস্পরিক স্বার্থ সুরক্ষায় এই কমিশন একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী অভিভাবক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে।

ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন ও সাংবাদিকদের সুরক্ষা

সংবাদপত্রের বহুল আলোচিত ওয়েজবোর্ড (নবম বা প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো) এবং সামগ্রিক গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি পেশাদার সাংবাদিকদের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের সদিচ্ছার কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, “সাংবাদিকদের সঠিক সময়ে বেতন-ভাতা না দেওয়া বা নানা অজুহাতে তাদের সাথে অপেশাদার আচরণ করা থেকে রক্ষা করা যেমন রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব, তেমনি সংবাদপত্রের ঐতিহ্য ও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে প্রতিষ্ঠানের মালিকদের প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়াটাও আমাদের মন্ত্রণালয়ের কাজ। আমরা উভয় পক্ষের মাঝে একটি সুষম ভারসাম্য তৈরি করতে চাই।”

অপসাংবাদিকতা ও আইনি সীমাবদ্ধতা দূর করার উদ্যোগ

সম্প্রতি দেশের শীর্ষ সম্পাদকদের সংগঠন ‘সম্পাদক পরিষদ’-এর সঙ্গে সরকারের অনুষ্ঠিত বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “সম্পাদক পরিষদের বৈঠকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ঢালাও মিথ্যা মামলার পাশাপাশি কতিপয় নামধারী সংবাদকর্মীর অপসাংবাদিকতা এবং এর মাধ্যমে দেশে এক ধরণের নৈরাজ্য সৃষ্টির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আলোচনায় এসেছে। প্রচলিত আইনে এই ধরণের অপসাংবাদিকতার তৎপরতাকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করার সুনির্দিষ্ট কোনো ধারা বা কাঠামো নেই। এর ফলে, ক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা অনেক সময় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ভিন্ন ধারার আইন ব্যবহার করছেন, যা কখনো কখনো সাধারণ সাংবাদিকদের জন্য হয়রানির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।”

তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, আগামীতে এই ধরণের আইনি সীমাবদ্ধতা দূর করতেই মিডিয়া কমিশন গঠনের প্রস্তাব আনা হচ্ছে। এই কমিশন গঠিত হলে অপসাংবাদিকতা রুখতে যেমন সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন পাওয়া যাবে, তেমনি স্বাধীন সাংবাদিকতার পথও আরও মসৃণ ও সুরক্ষিত হবে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দ

তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক আলোচনার অংশ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসীন এবং প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (পিআইও) সৈয়দ আবদাল আহমদ। সরকারের এই উচ্চপর্যায়ের আশ্বাসের পর সাংবাদিক ইউনিয়ন ও সংবাদকর্মীদের মাঝে নতুন আশার আলো দেখা যাচ্ছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে একটি স্বাধীন মিডিয়া কমিশনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

সর্বশেষ নিউজ