বাংলাদেশ সীমান্তে ‘পুশব্যাক’ বা ঠেলে পাঠানো ব্যক্তিদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানাল ভারত সরকার। বাংলাদেশে পুশব্যাক করা কয়েকজনকে পুনরায় ভারতে ফিরিয়ে এনে তাদের নাগরিকত্ব যাচাই (Citizenship Verification) করা হবে বলে শুক্রবার (২২ মে) সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছে কেন্দ্র।
কলকাতা হাইকোর্ট এর আগে এই পুশব্যাকের সিদ্ধান্তকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে তা বাতিল করেছিল। হাইকোর্টের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার।
সুপ্রিম কোর্টে কী জানাল কেন্দ্র? ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এই মামলার শুনানি চলছিল। কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার ওই ব্যক্তিদের ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে ভবিষ্যতের কোনো মামলার জন্য একে নজির বা ‘Precedent’ হিসেবে ধরা যাবে না।
তিনি আদালতকে নিশ্চিত করেন, “সরকার তাদের ফিরিয়ে আনবে এবং নাগরিকত্বের মর্যাদা পরীক্ষা করবে। ফলাফলের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” আগামী ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যে তাদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে বলে জানা গেছে। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে জুলাই মাসে।
মানবিক দৃষ্টিকোণ ও আইনি লড়াই এর আগে ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর শীর্ষ আদালত ‘মানবিক দৃষ্টিকোণ’ থেকে সোনালি খাতুন ও তার ৮ বছরের সন্তানকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেয়। রাজ্য সরকারকে ওই শিশুর দেখভাল এবং বীরভূমের মুখ্য স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে অন্তঃসত্ত্বা সোনালির বিনামূল্যে চিকিৎসার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সোনালি খাতুনের বাবা ভোদু শেখের অভিযোগ, গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে দিল্লির রোহিনী এলাকার সেক্টর ২৬-এ দিনমজুর হিসেবে কাজ করত এই পরিবারগুলো। কিন্তু গত বছরের ১৮ জুন পুলিশ তাদের ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে আটক করে এবং ২৭ জুন পুশব্যাক করে দেয়। আদালতে ভোদু শেখের পক্ষে লড়ছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কপিল সিবাল ও সঞ্জয় হেগড়ে।
গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর কলকাতা হাইকোর্ট সোনালি খাতুন, সুইটি বিবি ও তাদের পরিবারকে পুশব্যাক করার সিদ্ধান্ত বাতিল করে এক মাসের মধ্যে তাদের ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছিল। এবার সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে সেই প্রক্রিয়াই বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে।

