বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে এখন বেইজিং। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পর এবার চীন সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। আগামী ২৩ থেকে ২৬ মে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এই রাষ্ট্রীয় সফর করবেন বলে শুক্রবার (২২ মে) আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দরাবি জানান, চীন সরকারের বিশেষ আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ এই সফরে যাচ্ছেন। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৭৫তম বার্ষিকী উদযাপনের মুহূর্তে এই সফরের গুরুত্ব অপরিসীম।
শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক ও ভূ-রাজনীতি পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ‘ডন’ জানিয়েছে, চার দিনের এই সফরে শাহবাজ শরিফ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংসহ শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। আলোচনা হতে পারে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারত্ব নিয়ে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, “এই সফর পাকিস্তান-চীন চিরন্তন ও নির্ভরযোগ্য কৌশলগত অংশীদারত্বের অবিচল শক্তিকে আরও সুদৃঢ় করার সুযোগ দেবে এবং দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে আরও সুসংহত করবে।”
কেন এই সফর ঘিরে এত জল্পনা? চলমান ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বেইজিংয়ের বর্তমান কূটনৈতিক ব্যস্ততা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। মাত্র কয়েক দিন আগে, গত ১৩ মে দুদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীন যান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ঠিক ছয়দিন পর ১৯ মে বেইজিং সফর করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বিশ্বের দুই পরাশক্তি রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতার পর এবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর এই চীন সফর এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে চলেছে।

