ট্রাম্পের কড়া অ্যাকশন! সাড়ে ৪ হাজারেরও বেশি অবৈধ ভারতীয়কে ফেরত পাঠালো যুক্তরাষ্ট্র; দেড় বছরে রেকর্ড ডিপোর্টেশন

আন্তর্জাতিক টেবিল
spot_img
spot_img

যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে কোনো ধরণের বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবৈধভাবে বসবাসকারী বহিরাগতদের বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া চরম কঠোর অভিবাসন নীতির বড় ধাক্কা লেগেছে ভারতের ওপর। গত প্রায় দেড় বছরের বিশেষ অভিযানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৪ হাজার ৬০০-এরও বেশি অবৈধ ভারতীয়কে ফেরত পাঠালো যুক্তরাষ্ট্র। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও নিজস্ব সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি দাপ্তরিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

আজ শনিবার (৬ জুন ২০২৬) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল নয়া দিল্লিতে আয়োজিত এক নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই ব্যাপকভিত্তিক বহিষ্কার বা ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়ার সর্বশেষ তথ্য ও পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।

চলতি ২০২৬ ও বিগত ২০২৫ সালের বহিষ্কারের লাইভ খতিয়ান

নয়া দিল্লির সাউথ ব্লক সূত্রে জানা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে বড় ধরণের পরিবর্তন আসে। বিশেষ করে মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং কাগজপত্রের জালিয়াতি ঠেকাতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, চলতি ২০২৬ বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত (গত ৫ মাসে) ট্রাম্প প্রশাসনের বিশেষ বিমানে করে সর্বমোট ১ হাজার ৭৬ জন ভারতীয় নাগরিক সম্পূর্ণ অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে ভারতে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন। এর আগে বিগত ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ট্রাম্পের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সাঁড়াশি বহিষ্কার অভিযানের মাধ্যমে মোট ৩ হাজার ৫৬৭ জন ভারতীয়কে আটক করে সরাসরি ডিটেনশন ক্যাম্প থেকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে অবৈধ ভারতীয় নাগরিকদের ডিপোর্টেশনের পরিসংখ্যান:

বহিষ্কারের সময়কাল ও বছর ফেরত পাঠানো ভারতীয় নাগরিকের সংখ্যা বহিষ্কারের মূল আইনি কারণসমূহ প্রত্যাবাসনে দ্বিপাক্ষিক নীতি ও ভূমিকা
বিগত ২০২৫ সাল: ৩ হাজার ৫৬৭ জন ভারতীয় নাগরিক। ভিসা জালিয়াতি ও সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের নিবিড় সমন্বয়।
চলতি ২০২৬ সাল (এখন পর্যন্ত): ১ Cube ৭৬ জন ভারতীয় নাগরিক। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া ও নথিপত্রের অভাব। নাগরিকত্ব যাচাইয়ের পর নিজ দেশে গ্রহণ।
সর্বমোট (দেড় বছরে): ৪ হাজার ৬৪৩ জন ভারতীয় ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর ক্র্যাকডাউন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্বীকৃত প্রচলিত নিয়ম।
নাগরিকত্ব নিশ্চিতকরণ ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের স্বীকৃত নীতি

যুক্তরাষ্ট্রের এই গণ-বহিষ্কার প্রক্রিয়া নিয়ে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও পার্লামেন্টেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ভারত সরকারের স্পষ্ট অবস্থান ব্যাখ্যা করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিশ্বের যেকোনো দেশের নাগরিক যদি অন্য কোনো রাষ্ট্রে গিয়ে অবৈধভাবে অবস্থান করে, তবে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তাকে সসম্মানে নিজ দেশে ফেরত নেওয়া সংশ্লিষ্ট দেশের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

তবে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, কাউকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে জোরপূর্বক বিমানে তুলে দেওয়ার আগে বা ভারতের মাটিতে ফেরত পাঠানোর পূর্বে তার প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকত্ব শতভাগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এ বিষয়ে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর আগে দেশের পার্লামেন্টকেও (লোকসভা ও রাজ্যসভা) লিখিতভাবে অবহিত করেছিল যে, এটি শুধু ভারতের একক অবস্থান নয়; আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও এটি একটি অত্যন্ত স্বীকৃত, বৈধ এবং প্রচলিত নীতি।

ভিসার মেয়াদ ও সীমান্ত জালিয়াতি: সমন্বয় করছে ওয়াশিংটন-দিল্লি

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যেসব ভারতীয় নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তাদের মূলত তিনটি প্রধান অপরাধে সনাক্ত করা হয়েছে। প্রথমত, মেক্সিকো ও কানাডা সীমান্ত দিয়ে দালালের মাধ্যমে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ; দ্বিতীয়ত, স্টুডেন্ট বা ট্যুরিস্ট ভিসার নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও বছরের পর বছর ধরে সেখানে আত্মগোপন করে থাকা; এবং তৃতীয়ত, মার্কিন সরকারের প্রয়োজনীয় ও বৈধ কাজের অনুমতিপত্র (ওয়ার্ক পারমিট) ছাড়া কর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে বসবাস করা।

বর্তমানে এই বিশাল সংখ্যক অবৈধ ভারতীয়দের চিহ্নিত করে স্বদেশে নিরাপদ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার জন্য ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক চ্যানেল এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো অত্যন্ত নিবিড় ও যৌথ সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই ক্র্যাকডাউন আগামী দিনগুলোতে আরও জোরদার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

(তথ্যসূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস )

সর্বশেষ নিউজ