দেশের অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসাসমূহের প্রধানদের জন্য অত্যন্ত জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের প্রথম ছয় মাসের (জানুয়ারি থেকে জুন) উপবৃত্তি প্রদানের লক্ষ্যে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির তথ্য অনলাইন পোর্টালে এন্ট্রি বা প্রেরণের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হতে চলেছে। গত ২৩ মে থেকে দেশব্যাপী এই উপবৃত্তির ডাটা এন্ট্রি এবং চাহিদা তৈরির অনলাইন কার্যক্রমটি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছিল।
মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে একটি অফিশিয়াল চিঠির মাধ্যমে দেশের সকল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এবং সংশ্লিষ্ট মাদরাসা প্রধানদের এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য চূড়ান্ত নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
৭ জুনের মধ্যে তথ্য আপলোডের চূড়ান্ত সময়সীমা
অধিদপ্তরের প্রেরিত চিঠিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি দেওয়ার এই বিশেষ কার্যক্রমটি সরকারি নিয়মে চলমান রয়েছে। নির্ধারিত নোটিশ অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত সময়ের উপবৃত্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে আগামী ৭ জুনের মধ্যে অনলাইনের চাহিদা মেন্যু থেকে শিক্ষার্থীদের যাবতীয় তথ্য এন্ট্রি করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ার পর সার্ভারে নতুন কোনো শিক্ষার্থীর ডাটা বা চাহিদা গ্রহণ করা হবে না বলে শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে। ফলে যেসব প্রতিষ্ঠান প্রধান এখনো তাদের শিক্ষার্থীদের তথ্য আপলোড করতে পারেননি, তাদের জরুরি ভিত্তিতে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।
অনলাইনে চাহিদা তৈরি: mesp.finance.gov.bd লিংকে নির্দেশনা
মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর শিক্ষার্থীদের ডাটা নির্ভুলভাবে ইনপুট করার জন্য একটি সহজ নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মাদরাসার প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সরকারের নির্দিষ্ট অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপবৃত্তি সংক্রান্ত ওয়েবসাইট mesp.finance.gov.bd লিংকে প্রবেশ করতে হবে।
উক্ত পোর্টালে প্রবেশ করার পর ড্যাশবোর্ডের ‘চাহিদা তৈরি’র ক্ষেত্রে ‘চাহিদা মেন্যু’ অপশনে গিয়ে শিক্ষার্থীর নাম, অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট নম্বরসহ যাবতীয় তথ্য সঠিকভাবে সাবমিট করতে হবে। প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সুবিধার্থে এই সংক্রান্ত একটি নমুনা কপি এবং বিস্তারিত ‘চাহিদা ইউজার ম্যানুয়াল’ অফিশিয়াল চিঠির সঙ্গে সংযুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের তদারকির নির্দেশ
এই উপবৃত্তি কার্যক্রমটি যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয় এবং কোনো প্রকৃত শিক্ষার্থী যেন তালিকা থেকে বাদ না পড়ে, সে জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দেশের সকল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারদের নিজ নিজ এলাকার অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসাসমূহের ডাটা এন্ট্রি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও তদারকি করতে বলা হয়েছে।
অধিদপ্তর জানিয়েছে, উপবৃত্তি পাওয়ার মাধ্যমে ইবতেদায়ি স্তরের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে এবং মাদরাসা শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তথ্য পাঠাতে ব্যর্থ হলে এর দায়ভার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানকে বহন করতে হবে।

