অভ্যন্তরীণ কোন্দল নাকি চাঁদাবাজির বিরোধ? মৌচাকে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা; যুবদল কমিটি বিলুপ্ত

টেবিল প্রতিবেদন
spot_img
spot_img

রাজধানী ঢাকার রমনা থানার মৌচাক এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও চাঁদাবাজির বিরোধের জেরে এক নেতাকে নির্মমভাবে খুন করা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করার এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (৮ জুন ২০২৬) রাতে। নিহত নেতার নাম মো. বিল্লাল হোসেন তালুকদার (৫৭)। তিনি রমনা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন বলে পুলিশ ও দলীয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

​সোমবার রাত পৌনে আটটার দিকে মৌচাকের আনারকলি মার্কেটের সামনের গলিতে বিল্লালকে লক্ষ্য করে বুকে ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর রক্তাক্ত ও আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে রাত ৯টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

চাঁদাবাজির প্রতিবাদ ও সালিস বৈঠক: যেভাবে খুন হলেন বিল্লাল

​হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী, নিহতের পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় যুবদল নেতা দিদারুল ইসলাম বাবু ও তাঁর অনুসারীরা আনারকলি মার্কেটের সামনের খাবারের দোকানগুলোতে চাঁদাবাজি করছিলেন। এ সময় বিল্লাল হোসেনের ভাগনে মোবারক হোসেন আকাশ এই চাঁদাবাজির তীব্র প্রতিবাদ করেন। প্রতিবাদ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে যুবদল নেতা দিদারুল ও তাঁর দলবল আকাশকে আটকে রেখে মারধর শুরু করেন এবং তাঁর মামা বিল্লাল হোসেনকে সেখানে আসার জন্য খবর দেন।

​ভাগনেকে মারধরের খবর পেয়ে বিল্লাল হোসেন তাঁর মালিবাগের বাগানবাড়ির বাসা থেকে কয়েকজন সঙ্গীসহ আনারকলি মার্কেটের সামনে যান এবং বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বিল্লালের অপর ভাগনে মো. জুবায়ের হোসেন জানান, “সালিস-বৈঠকের একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে দিদারুলের লোকজন ছোরা বের করে মোবারক হোসেন আকাশকে লক্ষ্য করে দুই দফায় হামলার চেষ্টা চালায়, তবে সৌভাগ্যবশত তাঁর গায়ে কোপ লাগেনি। ঠিক এই সময় দিদারুলের নেতৃত্বাধীন এক সন্ত্রাসী পেছন থেকে এসে আচমকা মামার (বিল্লাল হোসেন) বুকে সরাসরি ছুরি চালিয়ে দেয়।” বুকে গভীর ক্ষত নিয়ে বিল্লাল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

যুবদল নেতা বাবু বহিষ্কার, রমনা থানা কমিটি বিলুপ্ত

​দলীয় নেতার ওপর নিজ দলেরই অপর অঙ্গসংগঠনের নেতার এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনার পর রাতেই নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্রীয় বিএনপি ও যুবদলের হাইকমান্ড। হত্যাকাণ্ড ও হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সোমবার রাতেই যুবদলের রমনা থানার আহ্বায়ক দিদারুল ইসলাম বাবুকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সাথে যুবদলের রমনা থানা কার্যনির্বাহী কমিটিকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়ানোর বিরুদ্ধে দল যে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে, এই তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তা স্পষ্ট করা হলো।

তদন্ত শুরু, জড়িতদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস পুলিশের

​স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বিল্লাল হোসেনের এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর মালিবাগ ও মৌচাক এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে। নিহত বিল্লাল হোসেনের বাবার নাম মৃত ইউসুফ তালুকদার।

​এই বিষয়ে পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “ঠিক কী কারণে এবং কারা বিল্লাল হোসেনকে ছুরিকাঘাত করেছে, তা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত প্রত্যেক অপরাধীকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনা হবে।” থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

সর্বশেষ নিউজ