সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন এক প্রতিক্রিয়ায় জানান, দীর্ঘ দুই দশক পর জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত এই বাজেটে নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখার রাজনৈতিক অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটেছে। তবে যথাযথ বাত্মবায়ন, কঠোর বাজার তদারকি এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না গেলে সাধারণ মানুষ এর সুফল থেকে বঞ্চিত হবে।
ক্যাব নেতার মতে, ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে উৎসে কর ছাড়, তামাকজাত পণ্যে কর বৃদ্ধি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির যন্ত্রপাতিতে শুল্ক হ্রাস প্রশংসনীয়। কিন্তু অতীতে তদারকির অভাবে কর ছাড়ের সুবিধা সাধারণ ভোক্তারা পায়নি, বরং ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মুনাফা লুটেছে। তাই ছাড়ের সুবিধা নিশ্চিত করতে নাগরিক পরিবীক্ষণ ও সরকারি দপ্তরগুলোর সদিচ্ছা জরম্নরি।
বাজেটে ফ্রিল্যান্সারদের কর হ্রাস এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ ভ্যাট কাঠামোর প্রত্মাবকে স্বাগত জানানো হয়েছে। প্রবীণদের জন্য ট্রেন ও মেট্রোরেলে কর ছাড়ের উদ্যোগকে ইতিবাচক উল্লেখ করে ক্যাব জানায়, টিকিট কালোবাজারি ও অব্যবস্থাপনা দূর না হলে এই সুবিধা কার্যকারিতা হারাবে। গ্রামীণ বিদ্যুৎ সংকট দূরীকরণে সৌরবিদ্যুৎ খাতে ২০৩৫ সাল পর্যšত্ম শূন্য শতাংশ কর ও ইভিতে অগ্রিম আয়কর হ্রাসের সিদ্ধাšত্মকে যুগোপযোগী মনে করছে সংগঠনটি। তবে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বড় বরাদ্দের চেয়ে এর কার্যকর বাত্মবায়নকে মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন নাজের হোসাইন। রাজস্ব আহরণ বাড়াতে এনবিআর-এর সংস্কার, কর ব্যবস্থা সহজীকরণ এবং বাজেট বা¯ত্মবায়নে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের দলীয় প্রভাবমুক্ত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বাজেটের কিছু সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করে ক্যাব জানায়, সাধারণ ভোক্তাদের শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধি, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বিএসটিআই ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম সম্প্রসারণে দৃশ্যমান বরাদ্দ বাড়েনি। এছাড়া করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকা না করা, ব্যবসায়ীদের বিপুল প্রণোদনা দিলেও নি¤্ন আয়ের শ্রমজীবীদের সুরক্ষায় স্পষ্ট দিকনির্দেশনা না থাকা এবং লাগামহীন মূল্যস্ফীতি রোধে টিসিবির পরিধি আশানুরূপ না বাড়ানোয় সাধারণ মানুষ কিছুটা হতাশ। নি¤্ন মধ্যবিত্তের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী ও গণপরিবহনে আরও অধিক বরাদ্দ প্রয়োজন ছিল বলে মনে করে ক্যাব।

