২০২৬ বিশ্বকাপে কেবল প্রতিপক্ষের স্ট্রাইকার বা রেফারির ভুলই যে চিন্তার কারণ হবে—তা নয়। বরং মাঠের বাইরের এক অদৃশ্য প্রতিপক্ষ এবার বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উত্তর আমেরিকায় দাবানলের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি এবং এর ফলে সৃষ্ট ধোঁয়া ও বায়ুমানের বিপর্যয় ফুটবল ইভেন্টটির জন্য এক ভয়াবহ অশনিসংকেত।
ক্যালিফোর্নিয়ায় এখন ‘মেগা-ফায়ারের’ যুগ। দাবানলের উৎপত্তিস্থল থেকে শত শত মাইল দূরেও বাতাসের গতিপথের ওপর নির্ভর করে ছড়িয়ে পড়তে পারে বিষাক্ত ধোঁয়া। এতে থাকা ‘পিএমটু.ফাইভ’ (PM2.5) নামক অতি ক্ষুদ্র কণা ফুসফুস ও রক্তপ্রবাহে ঢুকে পড়ে। পেশাদার ফুটবলারদের জন্য শারীরিক পরিশ্রমের সময় এই ধোঁয়া মারাত্মক শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ২০২৩ সালে কানাডার দাবানলের ফলে অনেক পেশাদার খেলাধুলা স্থগিত করতে হয়েছিল, যা থেকে ২০২৬ বিশ্বকাপের ঝুঁকি স্পষ্ট।
অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা ৪৮টি করায় এবং আয়োজক শহরগুলোর ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে এই বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি কার্বন নিঃসরণকারী টুর্নামেন্ট হতে যাচ্ছে। এতে প্রায় ৯০ লাখ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা আগের টুর্নামেন্টগুলোর গড় প্রায় দ্বিগুণ। যদিও একটি টুর্নামেন্ট সরাসরি দাবানল তৈরি করবে না, তবে চরম বৈশ্বিক তাপমাত্রার সাথে এই নিঃসরণ জলবায়ু সংকটের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বিশ্বকাপ মানেই কেবল স্টেডিয়াম নয়, বরং ফ্যান জোন, যাতায়াত ও উন্মুক্ত এলাকায় কাটানো আনন্দ। বায়ুমানের বিপর্যয় ঘটলে দর্শকদের ভ্রমণ পরিকল্পনা ও বাইরের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যখন বিশ্বকাপ হয়েছিল, তখন দাবানলের হার ছিল অনেক কম। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, যেকোনো সময় কোনো দাবানল আঘাত হানলে তা বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোর জন্য ‘রেড অ্যালার্ট’ হয়ে উঠতে পারে।

