মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বড় ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতি দেখা দিয়েছে। গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি’র অংশ হিসেবে ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকা থেকে সব ধরনের সামরিক অবরোধ প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকোম) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
চুক্তির বাস্তবায়ন ও হরমুজ প্রণালির প্রেক্ষাপট
গত বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই ঐতিহাসিক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেন। চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র তার অবরোধ প্রত্যাহার করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তবে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি থেকে ইরানের অবরোধ এবং মাইন অপসারণের বিষয়টি এখনও ঝুলে আছে।
যদিও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স দাবি করেছেন, চুক্তি স্বাক্ষরের পর গত দুই দিনে ইরান কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালায়নি এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেল পরিবহন পুনরায় শুরু হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইন্টেলিজেন্স ফার্ম ‘কেপলার’-এর তথ্যমতে, গত দুই দিনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অন্তত তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল করেছে, যা জ্বালানি বাজারে কিছুটা আশার আলো দেখাচ্ছে।
জ্বালানি বাজারে প্রভাব ও ভবিষ্যতের সম্ভাবনা
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ যাতায়াত করে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি অবরোধ জারির পর থেকেই বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল এবং দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গিয়েছিল। তবে বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশ চুক্তির শর্তগুলো সততার সঙ্গে মেনে চললেও বিশ্ববাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হতে অন্তত দুই মাস সময় লাগতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ইরান কবে নাগাদ হরমুজ প্রণালি থেকে তাদের জলমাইন অপসারণ ও অবরোধ তুলে নেওয়ার চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেয়।

