খামেনির শেষ বিদায়ে অংশ নিচ্ছে না সৌদি আরবসহ গালফ দেশগুলো

আন্তর্জাতিক টেবিল
spot_img
spot_img

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায় ও রাষ্ট্রীয় শোকের আয়োজনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রতিনিধিরা অংশ নিলেও, সৌদি আরবসহ গালফ অঞ্চলের দেশগুলোর অনুপস্থিতি আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) থেকে শুরু হওয়া এই আনুষ্ঠানিকতায় এখন পর্যন্ত সৌদি আরব কোনো প্রতিনিধি পাঠায়নি।

খামেনির শেষ বিদায়ে অনুপস্থিত সৌদি ও গালফ রাষ্ট্রসমূহ

সপ্তাহব্যাপী আয়োজিত এই বিদায় অনুষ্ঠানের প্রথম দিনে শুধুমাত্র বিদেশি প্রতিনিধিদের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কফিন উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। তবে আশ্চর্যজনকভাবে সৌদি আরবের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনও তাদের কোনো প্রতিনিধি পাঠায়নি। অথচ ১৪ মাস আগে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির জানাজায় সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অংশগ্রহণ ছিল বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।

কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট ও উত্তেজনার প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় খামেনির মৃত্যুর পর আঞ্চলিক পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটেছে। ইরান পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে এই দেশগুলোতে থাকা মার্কিন অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানোয় আঞ্চলিক দেশগুলোর সাথে ইরানের সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। এই সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে শেষ বিদায়ের এই কূটনৈতিক আয়োজনে।

শোক প্রকাশে অনীহা ও মোজতবা খামেনির ভবিষ্যৎ

গালফ দেশগুলোর আনুষ্ঠানিক শোক প্রকাশে অনীহাকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একটি কৌশলগত নীরবতা হিসেবে দেখছেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই অনুপস্থিতির মাধ্যমে তারা কার্যত ইরানের পরবর্তী সম্ভাব্য নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির নেতৃত্বকে এক প্রকার ‘অস্বীকৃতি’ জানানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এই কূটনৈতিক দূরত্ব ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যে আরও একা করে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সর্বশেষ নিউজ