৫ মে ২০২৬, মঙ্গলবার

জয়ন্তী হত্যাকান্ডে দুই মহারথী শম্পা রেজা ও আফসানা মিমি এখনো অধরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
spot_img
spot_img

২০০৪ সালে স্কুল শিক্ষিকা জয়ন্তী হত্যাকাণ্ড সবার টনক নাড়িয়ে দিয়েছিল। নিস্পাপ জয়ন্তী তার করুণ মৃত্যু দিয়ে বিবেকবান মানুষের স্মৃতির পাতা দখল করে আছেন আজ অবধি। জয়ন্তীর স্বামী আজম রেজাকে এই খুনের ক্রীড়ানক হিসেবে দাবি করেছে জয়ন্তীর পরিবার। জয়ন্তী হত্যাকান্ডে বাংলাদেশের দুই মহারথীর নাম প্রকাশ্যে চলে আসে, শম্পা রেজা ও আফসানা মিমি। শম্পা রেজার ছোটভাই আজম রেজা। তার সাথে রিলেশনশিপে ছিলেন আফসানা মিমি।

পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে সবার বড়বোন রিনি রেজা। রিনি গানের সাথে জড়িত ছিলেন। তরুলতা ছবির একটা গানে মোঃ রফিকুল আলমের সাথে প্লেব্যাক করেছেন, “নন্দিনী কেন যে ঝলোমলো শয্যা বলোনা কোথার সেই লজ্জা”। তরুলতার নায়িকা ছিলেন হেমা।

রিনি রেজা, শম্পা রেজা, নিপা রেজা। দুইভাই মাসুম রেজা এবং ছোটভাই হলেন আজম রেজা। রিনি রেজা লন্ডনে থাকেন। নিপা রেজা থাকেন সুইজারল্যান্ডে। মাসুম রেজা জার্মানিতে ছিলেন। বর্তমানে তিনি মৃত। আজম রেজা এখনো বেঁচে আছেন। শম্পা রেজার আপন খালা হলেন স্বনামধন্য রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী পাপিয়া সারোয়ার।

প্রখর আত্মসম্মানবোধের অধিকারী জয়ন্তী মেনে নিতে পারেননি আফসানা মিমির সাথে তার স্বামীর অবাধ মেলামেশা। এ নিয়ে দাম্পত্য কলহ নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল। জয়ন্তী অনেকবার শম্পা রেজা ও তার বোনদের কাছে স্বামীর পরকীয়া নিয়ে অভিযোগ করলে তারা নির্লিপ্ত ছিলেন। বিশেষ করে শম্পা রেজা তার ছোটভাইকে চরিত্র সংশোধন করার পরামর্শ না দিয়ে উল্টো জয়ন্তীকে তিরস্কার করেন।

এখানে বলে রাখা ভালো, আফসানা মিমির সাথে শম্পা রেজার অন্তরঙ্গ বন্ধুত্ব ছিল। বহুবার স্বামী আজম রেজার শরীর এবং পরিধেয় বস্ত্রে আফসানা মিমির লিপস্টিকের দাগ, প্যান্টের পকেটে কানের একটা দুল পেয়েছিলেন জয়ন্তী। আজমকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেছিলেন, “ওটা শম্পা আপার কানের দুল। বেইলি রোডের মহিলা সমিতি মঞ্চে একসাথে তারা নাটক দেখতে গিয়েছিলেন। শম্পার কানের দুল হারিয়ে গিয়েছিল। তাই বাকিটা তিনি ভাইয়ের কাছে রাখতে দিয়েছিলেন।” সরল বিশ্বাসপ্রবণ জয়ন্তী ধূর্ত স্বামীর কথা বিশ্বাস করেছিলেন। কিন্তু পরে আবিস্কার করেন, সেই কানের দুল আসলে শম্পার ছিলো না। ওই দুল ছিল আফসানা মিমির।

দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠতে লাগলো মিমি আজমের উদ্দাম জৈবিক সম্পর্ক। স্বাভাবিকভাবে এই অনাচার জয়ন্তীর পক্ষে সহ্য করা আর সম্ভব হয়নি। তিনি প্রতিবাদে ফেটে পড়লেন। ফলশ্রুতিতে তাকে পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হল।

জয়ন্তীর মৃত্যুর পর তার মা লুসিল সাদেকিন এই ঘটনায় সরাসরি শম্পা রেজা ও আফসানা মিমিকে দায়ী করেন। বোন শম্পার মদদে আজম রেজা জয়ন্তীকে পশুর মত মারধোর করেছিলেন কয়েক দফায়। তাকে গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ যখন জয়ন্তীর লাশ উদ্ধার করে তখন তার মাথা বুক পিঠ তলপেট ও বাহুতে জখমের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছিল।

আজম রেজার বিরুদ্ধে স্ত্রী হত্যার মোটিভ এবং সম্পৃক্ততা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছিল। তাকে মৃত্যুদণ্ড সাজাপ্রাপ্ত করা হলেও পরবর্তীতে আইনের প্যাঁচ খাটিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে মৃত্যুদণ্ড মওকুফ করিয়ে নেয়া হয়েছিল।

জয়ন্তী কে হত্যার দায়ে প্রথমে আজম রেজার ফাঁসির আদেশ হলেও পরে দাবার চাল চেলে উচ্চ আদালতের রায়ে যাবজ্জীবন সাজা দেয়া হয়। এরপর ২০১৩ সালে সবচেয়ে “সফল মিশনের” সূত্রপাত হয়। আজম রেজার ফাইল খোলা হয়। সাজা মওকুফের এই প্রক্রিয়া দ্রুত ত্বরান্বিত করতে আওয়ামীলীগ প্রভাবশালী মহলের জোরালো তদবির থাকার অভিযোগও রয়েছে।

আওয়ামীলীগের তৎকালীন প্রভাবশালী এক মন্ত্রীর নির্দেশে আফসানা মিমিকে অভিযোগনামা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

এই আফসানা মিমির বহুদিনের ব্যবসা ছিলো মিডিয়ার উঠতি মডেল এবং নায়িকাদের বড় বড় ব্যাবসায়ী এবং মন্ত্রীদের মনোরঞ্জনের জন্য সাপ্লাই দেওয়া।
চয়নিকা চৌধুরী ও সুবর্ণা মোস্তফাসহ একটা সুশীল সিন্ডিকেট এই ব্যবসা পরিচালনা করতেন, মিডিয়ায় যা ছিলো ওপেন সিক্রেট এবং বাইরের অনেকেরই জানা, তার এইসব অনিয়ন্ত্রিত ও অসামাজিক কর্মকান্ডের জন্য স্বামী গাজী রাকায়েতের সাথে তার ডিভোর্স হয়!

স্বৈরাচারের সহায়তায় এই খুনীরা খুব সহজেই রক্তের দাগ মুছে ফেলতে সক্ষম হয়েছে,স্বৈরাচার এখন আর নাই, তাই জয়ন্তী হত্যার অন্যতম দুই কুশিলব এই মক্ষীরানী আফসানা মিমি এবং শম্পা রেজাকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হোক!জয়ন্তী হত্যার সঠিক বিচার হোক। এই দাবি সকলের।

সর্বশেষ নিউজ