৩ মে ২০২৬, রোববার

আজ শুধু মিসকল দিলাম, ঈদের পর শুরু আন্দোলনের মূল ধাক্কা”— সাবেক মেয়র মোস্তফা

নিজস্ব প্রতিবেদক
spot_img
spot_img

আজকে শুধু একটা মিসকল দিলাম, ঈদের পরেই আন্দোলন বুঝবেন আসলে কাকে বলে —এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রংপুর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা।

বুধবার দুপুরে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলরদের পুনর্বহালের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। শাপলা চত্বর থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি দাবানল মোড়, পায়রা চত্বর হয়ে সিটি কর্পোরেশনের গেট পর্যন্ত গিয়ে ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান নেয়।

সাবেক মেয়র বলেন, এই সরকার জনগণের প্রতিনিধি নয়। তারা স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আমরাই সর্বপ্রথম পাশে দাঁড়িয়েছিলাম, অথচ আমরাই আজ বঞ্চিত।”

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ২০০৯ সালের স্থানীয় সরকার আইনের তোয়াক্কা না করেই নির্বাচিত পরিষদ বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। এক দেশে দুই আইন কিভাবে চলে?

চট্টগ্রামের একটি উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বয়কট করা নির্বাচনেও কেউ মেয়র হতে পারে, অথচ রংপুরের নির্বাচিত পরিষদকে এক কলমে বাতিল করা হয়? এটা রংপুরবাসী মানবে না।

তিনি আরও দাবি করেন, একজন দুর্নীতিপরায়ণ বিভাগীয় কমিশনারকে দায়িত্ব দিয়ে রংপুরবাসীর উপর ‘স্টিম রোলার’ চালানো হচ্ছে। তার ভাষায়, তিনি টাকা ছাড়া কিছু বোঝেন না। ফাইল এগোতে হলে পারসেন্টেজ দিতে হয়।”

নাগরিক দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরলেন মোস্তফা

মোস্তফা অভিযোগ করেন, প্রশাসক নিয়োগের পর জন্ম-মৃত্যু সনদ, ওয়ারিশান সনদ, টিকা কার্যক্রম, ট্রেড লাইসেন্স—সব সেবাই থমকে গেছে। শুধু হোল্ডিং ট্যাক্স না থাকলেই সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাজারো মানুষ। যারা ভাড়াবাসায়, ক্যাম্পে বা খাসজমিতে থাকেন, তাদের নাগরিক অধিকার মুছে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, “এই কমিশনার যদি আরও কিছুদিন থাকেন, তাহলে সিটি কর্পোরেশনে শুধু পাথর আর ইট থাকবে—মানুষ থাকবে না।”

ঈদের পর টানা কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

সাবেক মেয়র ঘোষণা দেন, ঈদের পর টানা কর্মসূচি পালন করা হবে সিটি কর্পোরেশনের গেটের সামনেই মঞ্চ বানিয়ে। জনসেবার জন্য রংপুরবাসীর অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে এই আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলেও জানান তিনি।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা।

সর্বশেষ নিউজ