ঈদুল আজহার আনন্দময় মুহূর্তেও রেহাই মেলেনি ফিলিস্তিনিদের। ঈদের দ্বিতীয় দিন, ৭ জুন, গাজার উপত্যকায় ইসরাইলি বিমান বাহিনীর ভয়াবহ হামলায় অন্তত ৭৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও প্রায় ১০০ জন। গাজার সিভিল ডিফেন্স বিভাগ জানিয়েছে, বহু মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন।
একই পরিবারের ১৬ জন নিহত, ৬ শিশু সহ
নিহতদের মধ্যে ১৬ জন একই পরিবারের সদস্য। এই পরিবারটি গাজা সিটির সাবরা এলাকায় বসবাস করত। নিহতদের মধ্যে ৬টি শিশু রয়েছে। হাসপাতাল কর্মীরা ধ্বংসস্তুপ থেকে একে একে মরদেহ উদ্ধার করছেন। অনেকেই এটিকে ঠান্ডা মাথার গণহত্যা বলে আখ্যা দিচ্ছেন।
কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়া হামলা চালানো হয়”
ফিলিস্তিনের সিভিল ডিফেন্স বিভাগের মুখপাত্র মাহমুদ বাসেল আলজাজিরাকে জানান, বিমান হামলার আগে কোনো ধরনের সতর্ক সংকেত বা সাইরেন দেওয়া হয়নি। তিনি আরও জানান, হামলার পর অন্তত ৮৫ জন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন, যাদের এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
ত্রাণ নেওয়ার সময়েও হামলা, নিহত ৮
সর্বশেষ হামলাটি চালানো হয় এমন এক সময়, যখন ফিলিস্তিনিরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাঠানো ত্রাণ নিতে এসেছিলেন। এ সময়ও হামলায় প্রাণ হারান আরও ৮ জন বেসামরিক ব্যক্তি।
ইসরাইলের দাবি ও হামাসের প্রতিক্রিয়া
ইসরাইলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা মুজাহেদিন ব্রিগেডের নেতা আসাদ আবু শারিয়াকে হত্যা করেছে। তিনি ২০২৩ সালে হামাস নেতৃত্বাধীন অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন বলে টাইমস অব ইসরাইলের খবরে জানানো হয়। হামাসও টেলিগ্রাম বার্তায় আসাদ আবু শারিয়ার শহীদ হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে।
ঈদের দিনও হামলা, নিহত ৪২
এর আগের দিন, অর্থাৎ ঈদের দিন ৬ জুন, গাজার বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি বাহিনী দিনভর গোলাবর্ষণ চালায়। ওই হামলায় নিহত হন অন্তত ৪২ জন।

