ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিনেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পশু কোরবানির ধারা অব্যাহত রয়েছে। ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী ১০, ১১ ও ১২ জিলহজ—এই তিনদিনই কোরবানি দেওয়ার সুযোগ থাকায় অনেকেই আজ কোরবানি দিচ্ছেন। কসাই সংকট ও ব্যক্তিগত সুবিধার কারণেও অনেকে ঈদের দিন নয়, পরদিন কোরবানির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সকালে রাজধানীর রামপুরা, খিলগাঁও, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ফজরের নামাজের পর থেকেই কোরবানির প্রস্তুতি শুরু করেছেন অনেকে। স্থানীয় বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান বলেন, “ঈদের দিন কসাই পাওয়া কঠিন হয়, তাই আগে থেকেই ঠিক করেছি আজ কোরবানি করবো। নিরিবিলি পরিবেশে ফজরের পর হুজুর এসে গরু জবাই দিয়েছেন, এখন কসাই মাংস প্রস্তুত করছেন।”
অন্য এক বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম জানান, কসাই না পাওয়ায় আজ কোরবানি করতে হচ্ছে। “ঈদের দিন বাচ্চারা একটু মন খারাপ করেছিল, তবে আজ তারা খুব খুশি,” বলেন তিনি।
কোরবানি নিয়ে ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিও তুলে ধরেছেন অনেকে।
খিলগাঁওয়ের মো. হাসান বলেন, “কোনো একটি নির্দিষ্ট দিনে কোরবানি দিলে বেশি সওয়াব হবে—এমন কিছু নেই। তিনদিনই সমান গুরুত্বপূর্ণ। কোরবানি মূলত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য। আমরা সেই নিয়তেই কোরবানি দিচ্ছি।”
কোরবানির মাংস বণ্টন নিয়েও সচেতনতা দেখা গেছে।
“ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী তিনভাগে ভাগ করে আমরা আত্মীয়—স্বজন, গরিব ও নিজেদের মধ্যে বণ্টন করছি,” বলেন মাহমুদুল।
পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সিটি করপোরেশনের সফলতা
ঈদের দিনের কোরবানির বর্জ্য রাতের মধ্যেই অপসারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। আজ এবং আগামীকালও (সোমবার) পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, তাদের ৭৫টি ওয়ার্ডে এক লাখ ৩৩ হাজার ৩১৭টি পশু কোরবানি করা হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডের বর্জ্য সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনে নিয়ে সেখান থেকে ডাম্প ট্রাকে করে মাতুয়াইল স্যানিটারি ল্যান্ডফিলে পাঠানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে লক্ষ্যমাত্রা ৩০ হাজার টনের মধ্যে প্রায় ১২ হাজার টন বর্জ্য ডাম্প করা হয়েছে।
এবার পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ১০ হাজারের বেশি জনবল নিয়োজিত রয়েছে। বর্জ্য অপসারণে ব্যবহৃত হচ্ছে ২০৭টি ডাম্প ট্রাক, ৪৪টি কম্পেক্টর, ৩৯টি কন্টেইনার ক্যারিয়ার ও ১৬টি পে—লোডারসহ মোট ২০৭৯টি যানবাহন।

