ইসরায়েলে বিস্ফোরণ ও সাইরেনের তাণ্ডব থামছে না। একের পর এক বিস্ফোরণে কেঁপে উঠছে অঞ্চলগুলো। ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রেই মূলত এসব বিস্ফোরণ ঘটছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
আসদোদ, লাচিস ও পশ্চিম জেরুজালেমে একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। সেন্ট্রাল ও দক্ষিণ ইসরায়েলে বিমান হামলার সতর্কতা হিসেবে টানা সাইরেন বেজে চলেছে।
টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, জেরুজালেমে সাইরেন বাজতেই নেসেটের সদস্যরা আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যান। সোমবার ইসরায়েল ও পশ্চিম তীরে সাংবাদিকদের রিপোর্টিং নিষিদ্ধ করা হয়। ফলে অনেক সংবাদকর্মী জর্ডান থেকে তথ্য সংগ্রহ করছেন বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।
ইরানের পাল্টা হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৫০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৪টি ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে আঘাত হেনেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রায় ৩৫ মিনিট ধরে বিস্ফোরণ ও সাইরেনে শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এখনো ক্ষয়ক্ষতির নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে জানা গেছে, গত ১০ দিনে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেন্ট্রাল ইসরায়েল এবং হাইফা শহর।
প্রতিবেদন মতে, ইরান সম্প্রতি এমন এক হামলা চালিয়েছে যাতে কোনো ধরনের আগাম সতর্কতা ছিল না। ইসরায়েল পরে নিশ্চিত করে, এটি ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভুল নয়।
উল্লেখ্য, ১৩ জুন ইসরায়েল ইরানে বড় ধরনের হামলা চালায়, যেখানে পরমাণু কেন্দ্র, সামরিক ঘাঁটি এবং আবাসিক এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। নিহত হন ৪০০-র বেশি মানুষ, যাদের মধ্যে পরমাণু বিজ্ঞানী, সামরিক কর্মকর্তা ও সাধারণ নাগরিকও রয়েছেন।
এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস থ্রি’ নামে সামরিক অভিযান চালায়। ১৩ থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত ইরান ২১ দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যা মূলত ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে কৌশলগত স্থাপনা লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে।

