৪ মে ২০২৬, সোমবার

পাহাড়ি ত্রিপুরা পল্লিতে পানির তীব্র সংকট: কয়লা ও সাইবেনী খিল এলাকায় মানবেতর জীবনযাপন

নুরুল আলম
spot_img
spot_img

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি জনপদ কয়লা ও সাইবেনী খিল এলাকায় বসবাসরত ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের মানুষের পানি সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিরাপদ পানির অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শতাধিক পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই এই এলাকায় বিশুদ্ধ পানির কোনো স্থায়ী উৎস নেই। পাহাড়ি ঝিরি ও অস্থায়ী জলাধারের উপর নির্ভর করেই জীবনযাপন করছেন বাসিন্দারা। তবে চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমে অধিকাংশ ঝিরি শুকিয়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে মারাত্মক সংকট।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নারী ও শিশুদের প্রতিদিন কয়েক কিলোমিটার পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ময়লা ও অপরিষ্কার পানি ব্যবহার করায় পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।
কয়লা এলাকার বাসিন্দা ত্রিপুরা নেতা লাল থুই মারমা বলেন, “আমাদের এখানে গভীর নলকূপ নেই, পাহাড়ি ঝিরিই ভরসা। এখন ঝিরি শুকিয়ে গেছে। আমরা চরম কষ্টে আছি।”

সাইবেনী খিল এলাকার গৃহিণী রুই থুই ত্রিপুরা জানান, “প্রতিদিন সকাল থেকে পানি আনার জন্য পাহাড়ে যেতে হয়। এক কলসি পানি আনতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগে। অনেক সময় না খেয়েও থাকতে হয়।”

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। তারা দ্রুত গভীর নলকূপ স্থাপন এবং পানি সংরক্ষণ প্রকল্প গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় কাজ করতে কিছুটা জটিলতা রয়েছে। তবে সমস্যার সমাধানে সরকারের উদ্যোগে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাহাড়ি অঞ্চলে টেকসই পানি ব্যবস্থাপনার জন্য বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, ছোট জলাধার নির্মাণ এবং সৌরচালিত পাম্প স্থাপন জরুরি।

দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই ত্রিপুরা পল্লিতে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা না হলে মানবিক সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সর্বশেষ নিউজ