দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে কারাবাসের সাজাপ্রাপ্ত থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের পুলিশ জেনারেল হাসপাতাল থেকে কারা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
মুক্তি পেলেও নির্দিষ্ট আইনি শর্তের কারণে তিনি সরকারের সার্বক্ষণিক নজরদারির মধ্যে থাকবেন।
৭৬ বছর বয়সী থাকসিন ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী এবং দেশটির বৃহত্তম রাজনৈতিক দল পিউ থাই পার্টির শীর্ষ নেতা ছিলেন। ক্ষমতায় থাকাকালে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে এবং আদালতে একাধিক মামলা দায়ের হয়।
মামলা ও সাজা থেকে বাঁচতে ২০০৮ সালে দেশ ছেড়ে পালিয়েছিলেন থাকসিন। দীর্ঘ ১৫ বছরের নির্বাসন শেষে ২০২৩ সালের আগস্টে তিনি ব্যাংককে ফিরে আসেন। দেশে পা রাখামাত্রই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাকে গ্রেপ্তার করে।
থাকসিন পলাতক থাকা অবস্থায় থাইল্যান্ডের সুপ্রিম কোর্ট তাকে ৮ বছরের কারাবাসের সাজা দিয়েছিল, যা দেশে ফেরার পর রাজকীয় ক্ষমায় কমিয়ে ১ বছর করা হয়। তবে বয়স এবং স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বিবেচনায় সাজা শেষ হওয়ার আগেই তিনি প্যারোলে মুক্তির সুযোগ পান।
মুক্তির দিন তার মেয়ে এবং পিউ থাই পার্টির শীর্ষ নেত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা তাকে অভ্যর্থনা জানাতে বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত শত শত দলীয় কর্মী-সমর্থক প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে পেয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন।
নিজের চেষ্টায় বিলিওনিয়ার হওয়া থাকসিন থাই রাজনীতিতে এক প্রভাবশালী ও আলোচিত ব্যক্তিত্ব। ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর সাধারণ মানুষের মাঝে যেমন তার বিপুল জনপ্রিয়তা তৈরি হয়েছিল, তেমনি প্রভাবশালী মহলে জন্ম নিয়েছিল তীব্র বিরোধিতার। যার চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে ২০০৬ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানে তার সরকারের পতন ঘটে।

