১২ মে ২০২৬, মঙ্গলবার

ফের আক্রান্ত হলে তেহরান এমন জবাব দেবে যা কল্পনাতীত: ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
spot_img
spot_img
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়ে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সর্বশেষ ১৪ দফার শান্তি প্রস্তাবকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য আখ্যা দিয়ে যুদ্ধবিরতি ‘লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে বলে মন্তব্য করার পর এবার কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো আগ্রাসনের অত্যন্ত কড়া ও শিক্ষণীয় জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় গালিবাফ বলেন, “ভুল কৌশল ও ভুল সিদ্ধান্ত সবসময় ভুল ফল বয়ে আনে এবং পুরো বিশ্ব ইতোমধ্যে তা বুঝতে শুরু করেছে। আমরা সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। প্রতিপক্ষ তেহরানের কাছ থেকে এমন সমুচিত জবাব পাবে, যা তারা কল্পনাও করতে পারবে না; তারা রীতিমতো চমকে যাবে।”

এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি সাংবাদিকদের জানান, যুদ্ধবিরতি এখন “ম্যাসিভ লাইফ সাপোর্টে” রয়েছে এবং এটি টিকে থাকার সম্ভাবনা মাত্র এক শতাংশ। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের দেওয়া ১৪ দফার প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছে।

অন্যদিকে ইরান বলছে, তারা যুদ্ধ নয়, বরং নিজেদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়। তেহরানের ১৪ দফা প্রস্তাবে মূলত যুদ্ধ বন্ধ, অবরোধ প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করা এবং বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের অর্থ অবমুক্ত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। গালিবাফ তাঁর বার্তায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরানি জনগণের এই যৌক্তিক অধিকারগুলো মেনে নেওয়া ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই।

সবচেয়ে বড় উত্তেজনার কেন্দ্র এখন হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন হয়। এই প্রণালিতে উত্তেজনা এবং মার্কিন অবরোধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে এর বড় ধাক্কা লাগবে।

এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা তাদের সামরিক আগ্রাসন ও অবৈধ অবরোধ আড়াল করতে বাস্তব পরিস্থিতিকে বিকৃতভাবে তুলে ধরছে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো ওয়াশিংটন ও তেহরান কি আবার আলোচনার টেবিলে ফিরতে পারবে, নাকি মধ্যপ্রাচ্য আরও বড় সংঘাতের দিকে যাবে। কারণ হরমুজ প্রণালি, জ্বালানি নিরাপত্তা, ইসরায়েল-ইরান বৈরিতা এবং মার্কিন সামরিক উপস্থিতি—সব মিলিয়ে এই সংকট এখন আর শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং ভয়াবহ বৈশ্বিক উদ্বেগে পরিণত হয়েছে।

(সূত্র: আইআরএনএ, রয়টার্স ও আল অ্যারাবিয়া)

সর্বশেষ নিউজ