মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের জন্য এক ঐতিহাসিক সুসংবাদ নিয়ে এলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘ প্রায় এক দশকের অচলাবস্থা ভেঙে উড়োজাহাজ বিক্রির এক বিশাল চুক্তি করতে যাচ্ছে দুই পরাশক্তি। গতকাল শুক্রবার (১৫ মে ২০২৬) চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এক হাই-প্রোফাইল বৈঠক শেষে ফেরার পথে সাংবাদিকদের এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান ট্রাম্প।
চুক্তির বিস্তার ও বোয়িংয়ের অগ্রগতি
প্রেসিডেন্টের বিশেষ বিমান ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, বেইজিং বৈঠকে হওয়া এক দ্বিপাক্ষিক চুক্তির অংশ হিসেবে বোয়িংয়ের কাছ থেকে বিমান কিনবে চীন। প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চীন প্রথম দফায় ২০০টি বোয়িং বিমান কেনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া এই চুক্তির আওতায় চীনের সামনে সর্বোচ্চ ৭৫০টি বোয়িং বিমান কেনার সুযোগ বা অপশনও থাকবে। যদিও হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে কোন মডেলের বিমান কেনা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
চীনা সরকার কিংবা বোয়িং—কোনো পক্ষই এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এই ক্রয়চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। তবে এটি বাস্তবায়িত হলে তা বোয়িংয়ের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির জন্য এক বিশাল মাইলফলক হবে। কারণ, চীনের বিশাল আকাশসীমার বাজার একসময় মার্কিন এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম প্রধান ভিত্তি ছিল। বোয়িংয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কেলি অর্টবার্গ স্বয়ং ট্রাম্পের এই বেইজিং সফরে মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন।
লাভবান হবে জিই অ্যারোস্পেসও: ৪০০ ইঞ্জিনের অর্ডার
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও জানান, এই মেগা চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ‘জিই অ্যারোস্পেস’-ও বিপুলভাবে লাভবান হবে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তির আওতায় প্রতিষ্ঠানটি চীনের জন্য ৪০০ থেকে ৪৫০টি অত্যাধুনিক বিমান ইঞ্জিন সরবরাহ করার সুযোগ পাবে। জিই অ্যারোস্পেসের চেয়ারম্যান ও সিইও এইচ লরেন্স কালপও ট্রাম্পের এই চীন সফরে সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন, যদিও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ট্রাম্প প্রশাসনের উৎপাদনশিল্প পুনরুজ্জীবনের পরিকল্পনা
পুনরায় হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন মার্কিন উৎপাদনশিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে। আর এই পরিকল্পনার একেবারে কেন্দ্রে রয়েছে বোয়িং। এর আগে গত বছর ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য সফরের সময় কাতার ও সৌদি আরব থেকেও বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী বিমানের বড় বড় অর্ডার নিশ্চিত করা হয়েছিল। এবার চীনের সাথে এই চুক্তি মার্কিন অর্থনীতিতে এক নতুন গতি আনবে বলে মনে করছে ট্রাম্প প্রশাসন।
বিশ্লেষকদের চোখে চুক্তির ভবিষ্যৎ ও অনিশ্চয়তা
বড় ধরনের এই ঘোষণার পরও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মনে কিছু ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা ও ধোঁয়াশা থেকে গেছে। জার্মান মার্শাল ফান্ডের ইন্দো-প্যাসিফিক কর্মসূচির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বোনি গ্লাসের বলেন, “বোয়িং বা চীনের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা ও দাপ্তরিক তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত আমাদের সতর্কভাবে অপেক্ষা করতে হবে। এছাড়া সয়াবিন, এলএনজি কিংবা গরুর মাংসের মতো অন্যান্য বাণিজ্য চুক্তির বিষয়েও কোনো স্পষ্ট রূপরেখা দেখা যায়নি। আপাতত আমরা কেবল প্রেসিডেন্ট যা বলেছেন, সেটুকুই জানি।” ফলে বোয়িংয়ের কাছ থেকে বিমান কিনবে চীন—ট্রাম্পের এই দাবির চূড়ান্ত বাস্তবায়ন দেখতে বৈশ্বিক বাজার এখন বেইজিংয়ের আনুষ্ঠানিক বিবৃতির অপেক্ষায় রয়েছে।

