রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে সংঘটিত ঐতিহাসিক শাপলা গণহত্যার ভিডিও আলামত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে (ICT) দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘ইসলামিক টিভি’। আজ সোমবার (১৮ মে, ২০২৬) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎ শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইসলামিক টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্যারিস্টার শামস ইস্কান্দার।
তদন্তের স্বার্থে আলামত সংরক্ষণের নির্দেশ চিফ প্রসিকিউটরের
প্রেস ব্রিফিংয়ে ব্যারিস্টার শামস ইস্কান্দার জানান, ২০১৩ সালের ৫ মে রাতে শাপলা চত্বরে যখন যৌথ বাহিনীর অভিযান ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছিল, তখন ইসলামিক টিভির ক্যামেরাম্যান এবং নিউজ টিম সরাসরি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে তা সম্প্রচার করছিল।
তিনি বলেন, “ঐদিন গভীর রাতে তৎকালীন সরকারের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আমাদের অফিসে এসে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। আমাদের ব্রডকাস্টের অত্যন্ত মূল্যবান ইকুইপমেন্ট, কম্পিউটার এবং এডিটিং প্যানেলসহ পুরো অফিস তছনছ করে জোরপূর্বক টিভির সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়। আজকের সাক্ষাতে চিফ প্রসিকিউটর মহোদয় এসব ঘটনার বিবরণ জানতে চেয়েছেন। একই সাথে আমাদের কাছে থাকা তৎকালীন সময়ের সমস্ত ভিডিও ও স্থির আলামত নিরাপদ হেফাজতে (সেফগার্ড) রাখতে বলেছেন। ট্রাইব্যুনালের তদন্তকারী ও প্রসিকিউশন দল আমাদের কাছ থেকে এসব আলামত সংগ্রহ করবেন এবং আমরাও তদন্তের স্বার্থে তা দিয়ে পূর্ণ সহযোগিতা করব।”
ইসলামিক টিভির ওপর চালানো ক্ষয়ক্ষতির সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
| ক্ষতিগ্রস্ত খাত | বিবরণ ও বর্তমান অবস্থা |
| লাইভ সম্প্রচার | ২০১৩ সালের ৫ মে গভীর রাতে জোরপূর্বক বন্ধ করা হয়। |
| অফিস ও স্টুডিও | আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দ্বারা ব্যাপক ভাঙচুর ও তছনছ। |
| প্রযুক্তিগত সম্পদ | ব্রডকাস্ট ইকুইপমেন্ট, কম্পিউটার ও এডিটিং প্যানেল জব্দ ও ধ্বংস। |
| আইনি অবস্থান | ট্রাইব্যুনালের চাহিদা অনুযায়ী সমস্ত ডিজিটাল আলামত হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত। |
মূলত পারিবারিক আক্রোশে বন্ধ করা হয়
তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইসলামিক টিভির বিরুদ্ধে ওঠা ‘উসকানিমূলক সম্প্রচারের’ অভিযোগ সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেন ব্যারিস্টার শামস ইস্কান্দার। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “একটি লাইভ ইভেন্ট যখন সরাসরি মাঠে ঘটছে, তখন সেটাকে কেউ কীভাবে উসকানিমূলকভাবে উপস্থাপন করবে? ক্যামেরায় যা ঘটছিল, ঠিক তা-ই প্রাকৃতিকভাবে দেখানো হয়েছে। এখানে উসকানি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এছাড়া অন্যান্য সমসাময়িক চ্যানেলগুলো সেই সময় যা ব্রডকাস্ট করেছিল, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে আমরা তার চেয়েও কম দেখিয়েছি। মূলত রাজনৈতিক ও পারিবারিক আক্রোশের কারণেই তখন ইসলামিক টিভি বন্ধ করা হয়েছিল।”
ন্যায়বিচারের স্বার্থে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে প্রস্তুত
শাপলা চত্বরের ঐ ঘটনার মামলায় ইসলামিক টিভির পক্ষ থেকে কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে সাক্ষ্য দেবেন কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ব্যবস্থাপনা পরিচালক অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “যদি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিম চায়, তবে আমরা অবশ্যই আদালতে সাক্ষ্য দিতে প্রস্তুত। ইসলামিক টিভির সাংবাদিক ও প্রতিনিধিরা ঐ রাতে স্বচক্ষে যা দেখেছেন, দেশের মানুষের সামনে এবং আদালতের কাঠগড়ায় ন্যায়বিচারের স্বার্থে তা হুবহু তুলে ধরা হবে।”
আইনি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাপলা চত্বরের ঘটনার দীর্ঘ এক যুগ পর ইসলামিক টিভির এই ভিডিও আলামত ও প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকদের সাক্ষ্য ট্রাইব্যুনালের তদন্ত প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল এবং তথ্যসমৃদ্ধ করবে।

