ইরান যুদ্ধে নিজেদের পর্যাপ্ত অস্ত্রের জোগান নিশ্চিত করতে এবার তাইওয়ানের কাছে ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের বিশাল অঙ্কের অস্ত্র বিক্রি সাময়িকভাবে স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার (২১ মে) মার্কিন সিনেটের এক শুনানিতে দেশটির ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনী সচিব হাং কাও এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর কয়েক দিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অস্ত্র বিক্রির অনুমোদনের বিষয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা প্রকাশ করে জানিয়েছিলেন, তিনি এ নিয়ে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলবেন।
সিনেটে যা জানাল যুক্তরাষ্ট্র বৃহস্পতিবারে অনুষ্ঠিত শুনানিতে হাং কাও বলেন, “এ মুহূর্তে আমরা অস্ত্র সরবরাহ সাময়িক স্থগিত রাখছি, যাতে ‘এপিক ফিউরি’র জন্য আমাদের প্রয়োজনীয় গোলাবারুদ নিশ্চিত করা যায়, যা অবশ্য আমাদের প্রচুর রয়েছে।” উল্লেখ্য, ‘এপিক ফিউরি’ হলো ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ সামরিক অভিযানের নাম।
অস্ত্র বিক্রি স্থগিতের বিষয়ে তাইওয়ানের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে হাং কাও জানান, তিনি তাইওয়ানিজদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেননি। তবে তিনি আশ্বস্ত করেন, বর্তমান প্রশাসন যখন প্রয়োজন মনে করবে, তখনই এই সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি আবার শুরু হবে।
কী বলছে তাইওয়ান ও চীন? শুক্রবার তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের একজন মুখপাত্র সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে মার্কিন সিদ্ধান্তের কোনো পরিবর্তনের খবর তারা এখনও পাননি।
অন্যদিকে, তাইওয়ানের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষুব্ধ বেইজিং। গত ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের কাছে ১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিলে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছিল, এই পদক্ষেপ ‘তাইওয়ান প্রণালিজুড়ে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক ও সহিংস করে তুলবে’। যদিও তাইওয়ানের নেতা লাই চিং-তে বরাবরই দাবি করে আসছেন, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্যই মার্কিন অস্ত্র বিক্রি অত্যন্ত জরুরি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত এই অস্ত্র চুক্তির চূড়ান্ত অনুমোদন দেবেন কি না, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে।

