কুষ্টিয়ার খোকসায় এক ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। একটি যাত্রীবাহী বাস ও বালুভর্তি ড্রাম ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষের পর বাসটি মহাসড়কের পাশের গভীর পুকুরে ছিটকে পড়ে ৩ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গুরুতর ৫ জনসহ বাসের অন্তত ২০ জন আরোহী আহত হয়েছেন।
আজ শনিবার (২৩ মে ২০২৬) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী মহাসড়কের খোকসা উপজেলার শিমুলিয়া কুঠিপাড়া নামক স্থানে এই হাড়হিম করা দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি হলেন খোকসা উপজেলার কমলাপুর গ্রামের জুনাইয়েদ হোসেনের ছেলে নাবিল হোসেন (২৮)। নিহত বাকি একজন নারী ও একজন পুরুষের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি।
নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা: বাসের পুকুরে সলিল সমাধি
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজবাড়ীর দিক থেকে ছেড়ে আসা কুষ্টিয়াগামী একটি যাত্রীবাহী লোকাল বাস কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী মহাসড়কের খোকসা উপজেলার শিমুলিয়া কুঠিবাজার এলাকায় পৌঁছায়। ঠিক একই সময়ে বিপরীত দিক অর্থাৎ কুষ্টিয়া থেকে রাজবাড়ীর অভিমুখে যাচ্ছিল একটি দ্রুতগামী বালুভর্তি ড্রাম ট্রাক।
শিমুলিয়া কুঠিপাড়া নামক স্থানে পৌঁছালে দ্রুতগামী ড্রাম ট্রাকটি আকস্মিক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থেকে যাত্রীবাহী বাসটিকে প্রচণ্ড জোরে মুখোমুখি ধাক্কা দেয়। ধাক্কার তীব্রতায় বাসটি সড়ক থেকে ছিটকে পাশের একটি পুকুরে উল্টে পড়ে যায়। এতে বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি ও চিৎকার শুরু হয়। ঘটনাস্থলেই ২ জন যাত্রী প্রাণ হারান এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও এক নারীর মৃত্যু হয়।
হাসপাতালে ২০ জনের চিৎকার: ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক
দুর্ঘটনার পর পরই স্থানীয় জনতা, ফায়ার সার্ভিস ও খোকসা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুকুর থেকে বাসের জানালা কেটে ও ভেতর থেকে আহতদের উদ্ধার কাজ শুরু করে। আহত ২০ জনকে তাৎক্ষণিকভাবে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আরিফুল হক দুর্ঘটনার সার্বিক চিকিৎসা পরিস্থিতি নিশ্চিত করে বলেন, “দুপুর ১২টার দিকে কুঠিপাড়ার সড়ক দুর্ঘটনা থেকে প্রায় ২০ জন রোগী আমাদের হাসপাতালে আসেন। এর মধ্যে আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে গুরুতর ১১ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার বা স্থানান্তর করেছি। চিকিৎসাধীন এই ১১ জনের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। এছাড়া ২ জনকে আমরা হাসপাতালেই মৃত অবস্থায় পেয়েছিলাম এবং পথিমধ্যে আরও এক নারী মারা গেছেন। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।”
নিহতদের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ
ভয়াবহ এই মুখোমুখি সংঘর্ষ ও পুকুরে বাস পড়ে যাওয়ার খবর পেয়ে খোকসা থানা পুলিশের একটি টিম দ্রুত মহাসড়কে গিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে এবং দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ট্রাকটিকে জব্দ করে।
এ বিষয়ে খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন বলেন, “রাজবাড়ীর দিক থেকে ছেড়ে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস খোকসা উপজেলার শিমুলিয়া কুঠিবাজার এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুভর্তি একটি দ্রুতগামী ড্রাম ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ড্রাম ট্রাকের ধাক্কায় বাসটি পুকুরে পড়ে এ পর্যন্ত ৩ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে যুবকের নাম নাবিল বলে জানা গেছে, বাকিদের পরিচয় এখনো মেলেনি। আমরা নিহতের সুনির্দিষ্ট পরিচয় শনাক্তে কাজ করছি। ঘাতক ট্রাক চালককে আটকে অভিযান চলছে এবং এই বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

