দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননজুড়ে ইসরায়েলি বিমান হামলায় শিশুসহ অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৬ মে) চালানো এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৪০ জন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদার করার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই এই প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটল।
মঙ্গলবার লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে চালানো ভয়াবহ এই হামলায় নিহতদের মধ্যে অন্তত চারজন শিশু ও তিনজন নারী রয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। হামলায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে টায়ার (Tyre) শহরের নিকটবর্তী বুরজ আল-শামালি এলাকায় (১৪ জন)। এছাড়াও কাওথারিয়াত আল-রিজ, হাব্বুশ, মারকেহ এবং সালা এলাকায় প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, একটি পাবলিক হাসপাতালের কাছেও হামলা চালানো হয়েছে, যা ভবনটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে।
এর আগে সোমবার নেতানিয়াহু ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, তিনি হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে ‘আরও কঠোর পদক্ষেপ’ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মঙ্গলবার নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি বলেন, ইসরায়েল লেবাননে তাদের সামরিক অভিযান তীব্র করছে এবং গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থানগুলো দখল করছে। উত্তর ইসরায়েলের জনবসতিগুলোকে নিরাপদ রাখতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) সেখানে ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ শক্তিশালী করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সামরিক কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, গত এক রাতে ইসরায়েলি বাহিনী হিজবুল্লাহর ১০০টিরও বেশি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে মার্কিন মধ্যস্থতায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও উভয় পক্ষই নিয়মিত একে অপরের ওপর হামলা চালিয়ে আসছে। এই সংঘাত এখন অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। উল্লেখ্য, চলমান পরিস্থিতির মধ্যেই মঙ্গলবার দক্ষিণ ইরানে মার্কিন সামরিক বাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনাও এই সামরিক উত্তেজনার কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে।

