পাবনায় প্রকাশ্য রাস্তায় চরম নৃশংসতা! ছেলের সামনে বাবাকে গুলি করে হত্যা করল দুর্বৃত্তরা

টেবিল প্রতিবেদন
spot_img
spot_img

পাবনা জেলা শহরে প্রকাশ্য রাস্তায় এক হৃদয়বিদারক ও অত্যন্ত নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। নিজের মাদরাসা পড়ুয়া অবুঝ সন্তানের চোখের সামনেই এক বাবাকে গুলি করে হত্যা করেছে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা। ছেলের সামনে বাবাকে গুলি করে হত্যা করার এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (৮ জুন ২০২৬) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পাবনা শহরের জামেয়া আশরাফিয়া মাদরাসার ঠিক সামনের প্রধান সড়কে।

​নিহত ব্যক্তির নাম হোসেন আলী (৫৩)। তিনি পাবনা সদর উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের জাফরাবাদ এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন এবং জামেয়া আশরাফিয়া মাদরাসায় একজন স্টাফ হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

অস্ত্র পুনরায় লোড করে দফায় দফায় গুলি: যেভাবে খুন হলেন হোসেন

পাবনা স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ প্রশাসন থেকে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় নিজের মাদরাসা পড়ুয়া ছোট ছেলেকে মাদরাসার হোস্টেলে রেখে আসার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে রওনা হয়েছিলেন হোসেন আলী। তিনি তাঁর সন্তানকে সাথে নিয়ে হেঁটে জামেয়া আশরাফিয়া মাদরাসার প্রধান ফটকের সামনে পৌঁছামাত্র পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত আচমকা তাঁদের পথরোধ করে।

​কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই সন্ত্রাসীরা হোসেন আলীকে লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে পরপর দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে। প্রথম দফায় গুলি করার পর তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ঘাতকেরা তাদের হাতের আগ্নেয়াস্ত্রটি পুনরায় লোড করে এবং তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য আরও কয়েক রাউন্ড গুলি চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। চোখের সামনে বাবার ওপর এমন বর্বরোচিত ও bloody হামলার দৃশ্য দেখে নিহতের শিশু সন্তানটি ঘটনাস্থলেই স্তব্ধ ও আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।

এলাকায় তীব্র আতঙ্ক, পুলিশি তৎপরতা জোরদার

সন্ধ্যা রাতে জনাকীর্ণ এলাকায় এমন মুহুর্মুহু গুলির শব্দে পুরো মাদরাসা প্রাঙ্গণ ও আশেপাশের এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে দুর্বৃত্তরা এলাকা ত্যাগ করলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসেন এবং গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত হোসেন আলীকে দ্রুত উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিয়ন্ত্রণ শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

​এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে পাবনা সদর থানা পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করেছে। পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশ ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে।

সর্বশেষ নিউজ