২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও বিতর্কহীন করতে বেশ কিছু কঠোর নতুন নিয়ম চালু করেছে ফিফা। খেলোয়াড়দের মাঠের ‘নাটকীয়তা’ বন্ধ করা এবং সময় অপচয় রোধ করাই এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য। এবারের বিশ্বকাপে যে নতুন নিয়মগুলো কার্যকর হচ্ছে, তা নিচে তুলে ধরা হলো।
মুখ ঢেকে কথা বলায় সরাসরি লাল কার্ড
আধুনিক ক্যামেরার নজরদারি থেকে বাঁচতে খেলোয়াড়রা হাত দিয়ে মুখ ঢেকে তর্কে জড়ান বা গালি দেন। ফিফার রেফারি কমিটির প্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা জানিয়েছেন, এখন থেকে কোনো খেলোয়াড় মুখ ঢেকে কথা বললে রেফারি ধরে নেবেন সেটি আপত্তিকর। এই অপরাধে খেলোয়াড়কে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হতে পারে। এছাড়া রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে ইচ্ছাকৃত মাঠ ছাড়লেও লাল কার্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
গোলরক্ষকদের জন্য ৮ সেকেন্ডের নিয়ম
এতদিন গোলরক্ষকরা বল হাতে নিয়ে ৬ সেকেন্ড পর্যন্ত সময় পেতেন, যা বাস্তবে কখনোই কঠোরভাবে পালিত হতো না। এখন থেকে:
-
একজন গোলরক্ষক বল হাতে সর্বোচ্চ ৮ সেকেন্ড রাখতে পারবেন।
-
শেষের ৫ সেকেন্ড রেফারি হাত উঁচিয়ে কাউন্টডাউন করবেন।
-
এই সময়ের মধ্যে খেলা শুরু না করলে প্রতিপক্ষ দল সরাসরি কর্নার বা থ্রো-ইন পাবে।
মাঠ ত্যাগে সময়সীমা ও চিকিৎসার নতুন নিয়ম
বদলি খেলোয়াড় নামানোর সময় সময় নষ্ট করা ঠেকাতে নতুন নিয়ম:
-
চতুর্থ অফিসিয়াল সংকেত দেওয়ার ১০ সেকেন্ডের মধ্যে সবচেয়ে কাছের টাচলাইন দিয়ে মাঠ ছাড়তে হবে। ব্যর্থ হলে শাস্তিস্বরূপ ওই দলকে ১০ জন নিয়ে খেলতে হবে।
-
আঘাত পেয়ে ডাক্তার বা ফিজিও মাঠে প্রবেশ করলে, সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়কে চিকিৎসার পর মাঠে ফিরতে ১ মিনিট বাইরে অপেক্ষা করতে হবে (নির্দিষ্ট কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া)।
ভিএআর (VAR) প্রযুক্তির পরিধি বৃদ্ধি
ভিএআর (VAR) এখন গোল বা পেনাল্টির বাইরেও আরও কিছু ক্ষেত্রে কাজ করবে:
-
কর্নার কিক: রেফারি বা লাইনসম্যান ভুল করে কর্নার দিলে তা চেক করবে ভিএআর।
-
দ্বিতীয় হলুদ কার্ড: কোনো খেলোয়াড় দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের ফলে লাল কার্ড দেখলে, তা সঠিক কি না তা রিভিউ করা হবে।
-
ফাউল: বল মাঠে গড়ানোর আগে আক্রমণভাগের খেলোয়াড়ের কোনো ফাউল গোল বা পেনাল্টির সুযোগ তৈরি করলে তা বাতিল করা হবে।
-
ভুল পরিচয়: ভুল করে অন্য খেলোয়াড়কে কার্ড দেওয়া হলে তা সংশোধন করা হবে।
ফিফার এই কঠোর নিয়মগুলো খেলোয়াড়দের পেশাদারিত্ব বাড়াবে নাকি উল্টো মাঠে নতুন নাটকীয়তার জন্ম দেবে, তা এখন দেখার বিষয়।

