মৃত্যুর চার মাস পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নিহত হওয়ার পর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দেশজুড়ে ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ ছয় দিনের শোক ও বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ইরান। রাজধানী তেহরানের রাজপথে কালো পোশাক পরিহিত হাজারো সাধারণ মানুষের ঢল নেমেছে।
খামেনির ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় জানাজা ও বিদায়
শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই শোক কর্মসূচি আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলবে। তেহরানের রাস্তায় শোকাতুর সাধারণ মানুষের হাতে ইরানের জাতীয় পতাকা এবং প্রিয় নেতার ছবি দেখা গেছে। খামেনির অফিশিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, একটি সজ্জিত কক্ষে রাখা কফিনের ওপর পবিত্র ইমাম রেজা (আ.) মাজারের লাল পতাকা রাখা হয়েছে।

কফিনের ওপর লাল পতাকার প্রতীকী তাৎপর্য
কফিনের ওপর রাখা এই লাল পতাকা শিয়া মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত গভীর প্রতীকী গুরুত্ব বহন করে। মধ্যপ্রাচ্য ও ইসলামি রাজনীতি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক নাদের হাশেমির মতে, এটি মহানবী (সা.)-এর দৌহিত্র ইমাম হোসাইন (আ.)-এর আত্মত্যাগের প্রতীক। তিনি বলেন, “ইরান সরকার খামেনির মৃত্যুকে কারবালার আত্মত্যাগের সঙ্গে তুলনা করে একে শাহাদাতের উচ্চমার্গের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরছে।” এই প্রতীকী পদক্ষেপের মাধ্যমে ন্যায় ও প্রতিরোধের বার্তা দেওয়া হচ্ছে।
জুলাই মাশহাদে চূড়ান্ত দাফন
আগামী ৯ জুলাই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পবিত্র নগরী মাশহাদে অবস্থিত ইমাম রেজা (আ.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে খামেনিকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে। তার আগে পুরো দেশ জুড়ে রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে শেষ বিদায় জানানো হচ্ছে এই শীর্ষ নেতাকে।

