সাংবাদিকতার প্রতিদিনের কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কীভাবে ব্যবহার করা যায়, কোন ক্ষেত্রে প্রযুক্তিটির সহায়তা নেওয়া সম্ভব এবং এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার কারণে কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, তা ব্যবহারিক উদাহরণ ও নির্দেশনার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে বইটিতে।
৫০টি অধ্যায়ে সাজানো বইটিতে সাংবাদিকতার বিভিন্ন পর্যায়ে এআই ব্যবহারের কৌশল আলোচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সংবাদ পরিকল্পনা, তথ্য অনুসন্ধান, গবেষণা, সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি, অডিও থেকে বক্তব্য প্রতিলিপি তৈরি, সরকারি নথি ও বাজেট বিশ্লেষণ, ডেটা সাংবাদিকতা, সংবাদ লেখা ও সম্পাদনা, তথ্য যাচাই এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা।
এ ছাড়া ভাইরাল ছবি, ভিডিও ও অডিও যাচাই, ডিপফেক শনাক্তকরণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডিজিটাল সূত্র অনুসন্ধান, সংবাদ আর্কাইভ বিশ্লেষণ, নিউজরুম পরিচালনা এবং ছবি, ভিডিও ও অডিও কনটেন্ট তৈরিতে এআইয়ের ব্যবহার নিয়েও পৃথক অধ্যায় রয়েছে।
বইটিতে এআই ব্যবহারের ঝুঁকি ও নৈতিকতার বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে এআইয়ের ভুল তথ্য বা হ্যালুসিনেশন শনাক্ত করা, ভুয়া তথ্য যাচাই, তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা, সংবাদসূত্রের নিরাপত্তা এবং এআই-সহায়তায় তৈরি সংবাদ প্রকাশের নীতিমালা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
লেখক আনিসুর বুলবুল বলেন, এআই সাংবাদিকতার কাজের গতি ও দক্ষতা বাড়াতে পারে। তবে সত্য যাচাই এবং প্রকাশিত সংবাদের দায়বদ্ধতা কোনোভাবেই প্রযুক্তির ওপর ছেড়ে দেওয়া যায় না। এআইয়ের দেওয়া তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই, প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং পাঠকের আস্থা রক্ষা করা সাংবাদিকের মৌলিক দায়িত্ব। এই উপলব্ধি থেকেই বইটি লেখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য এআইয়ের মৌলিক ধারণার পাশাপাশি অভিজ্ঞ সাংবাদিকদের কাজে প্রয়োগযোগ্য বিভিন্ন কৌশলও বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে। এতে সংবাদ পরিকল্পনা, গবেষণা ও লেখার জন্য নির্বাচিত প্রম্পট, এআই ব্যবহারের আগে-পরে যাচাই তালিকা, সংবাদ প্রকাশের পূর্ববর্তী তথ্য যাচাইয়ের চেকলিস্ট এবং নিউজরুমে এআই ব্যবহারের নমুনা নীতিমালা যুক্ত করা হয়েছে।
বইটির প্রচ্ছদ করেছেন তন্ময় রহমান। বইটি অনলাইন বই বিক্রয় প্রতিষ্ঠান রকমারি এবং প্রকাশকের ওয়েবসাইট labibayan.com-এ পাওয়া যাচ্ছে। প্রকাশকের ওয়েবসাইটে বইটি ২৫ শতাংশ ছাড়ে কেনার সুযোগ রয়েছে।

