২০১৫ সালে এসএসসি এবং এর দুই বছর পর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন হিমি। এসএসসি পরীক্ষার সময় চলছিল তার ধারাবাহিক নাটক ‘মোহর আলী’র শুটিং। পরীক্ষা দিয়ে শুটিংয়ে অংশ নিতে হতো তাকে। ধারাবাহিক নাটকের শিডিউল অন্য শিল্পীদের সঙ্গে মিলিয়ে নির্ধারণ করা হতো বলে শুটিং বাদ দেওয়ার সুযোগ ছিল না।
সেই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে হিমি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছি শুটিংয়ের মাঝে। পরীক্ষা শেষে এসে শুটিং করতাম। কারণ, ধারাবাহিক নাটকের শিডিউল সবার একসঙ্গে থাকে, যে কারণে শুটিং বাদ দিতে পারতাম না। তবে আমি এগুলো উপভোগ করতাম। কারণ, আগেই আমার পড়াশোনা সম্পন্ন ছিল।’
শুটিংয়ের ব্যস্ততা পড়াশোনায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি বলে জানান এই অভিনেত্রী। বরং শুটিং সেটেই বই নিয়ে পড়তে বসতেন তিনি। হিমির ভাষায়, ‘আমি এমন হতো বেশির ভাগ সময় শুটিংয়ে গিয়ে বই নিয়ে বসে থাকতাম। সবাই বলত, আমি পড়ুয়া। দেখা যেত, শুটিংয়েই আমার পড়াশোনা শেষ হয়ে যেত। যে কারণে শুটিং কখনোই আমার পড়াশোনার জন্য সমস্যা হয়নি।’
এইচএসসি পরীক্ষার সময়ও নিয়মিত শুটিং করেছেন হিমি। তবে পরীক্ষা শেষে তাকে আর শুটিংয়ে যেতে হয়নি। পড়াশোনার প্রতি নিজের আগ্রহের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি মেধাবী ছিলাম কি না জানি না। তবে প্রচুর পড়তাম। সময় পেলেই বই নিয়ে বসতাম। আমার মধ্যে বিশেষ একটা কারণে মনে হতো, পরীক্ষা ভালো করতে হবে।’
পড়াশোনায় এতটা মনোযোগী হওয়ার পেছনের কারণও জানিয়েছেন অভিনেত্রী। তার পরিবারের কেউ অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত নন। পরিবারের একমাত্র সদস্য হিসেবে অভিনয়ে আসায় বিষয়টি তার জন্য ছিল চ্যালেঞ্জের। হিমি বলেন, ‘আমাদের পরিবারের কেউ অভিনয় করেন না। সেখানে আমি একমাত্র অভিনয়ে আসি। এটা আমার জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল। আমার সব সময় এটা মাথায় থাকত, কেউ যেন বলতে না পারে, পড়াশোনা ভালো হচ্ছে না। আমিও চাইতাম মা-বাবা যেন আমার কোনো কিছুতে হতাশ না হন।’
অভিনেত্রী জানান, মা-বাবা কখনোই পড়াশোনা নিয়ে তাকে অতিরিক্ত চাপ দিতেন না। শুধু ভালো ফল করার কথা বলতেন। তিনি বলেন, ‘আমি এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ–৫ পেয়েছি। এর চেয়ে অনেক কম পেলেও মা-বাবা কিছু বলতেন না। কিন্তু আমি নিজের পছন্দমতো অভিনয় করার জন্য কিছুটা চাপ নিয়ে পড়াশোনা করতাম। আমি চাইতাম সব জায়গাতেই ভালো হতে হবে। সেই চেষ্টা এখনো করি।’
পরীক্ষায় ভালো ফলের জন্য প্রস্তুতির গুরুত্বও তুলে ধরেন হিমি। তার ভাষ্য, ‘আমাকে কখনোই পড়াশোনার জন্য মায়ের বকা শুনতে হয়নি। বরং আমি আব্বু-আম্মুকে খুশি রাখতাম। তবে তাদের একটাই কথা ছিল, কখনোই কারও কিছু দেখে লেখা যাবে না। আমি যেটা পারব, সেটাই লিখব। এ কথাগুলো আমি মনে রাখতাম। আসলে প্রস্তুতিটাই ভালো থাকলে পরীক্ষা ভালো হয়।’
অভিনয়ে হিমির উল্লেখযোগ্য অর্জনের মধ্যে রয়েছে ‘শ্বশুরবাড়িতে ঈদ’ নাটক। মহিন খানের পরিচালনায় নাটকটিতে তার সহশিল্পী ছিলেন নিলয় আলমগীর। বাংলা নাটকের অভিনেত্রীদের মধ্যে নাটকটির ভিউ সর্বাধিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন পর নতুন ধারাবাহিক নাটক ‘প্রথম প্রেমের গল্প’ নিয়ে পর্দায় ফিরেছেন হিমি। ‘স্মৃতির আল্পনা’ ধারাবাহিকের প্রায় ছয় বছর পর নতুন এই ধারাবাহিকে কাজ করছেন তিনি। নাটকটি পরিচালনা করেছেন তানভীর তন্ময়।
নতুন ধারাবাহিকটি দর্শকদের কাছ থেকে সাড়া পাওয়ায় সন্তুষ্ট হিমি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন পরে ধারাবাহিকে ফিরলাম। এতটা প্রশংসা পাব ভাবিনি। আসলে আমার কমেডি নাটকের কিছু দর্শক হয়তো পছন্দ করছেন না। কিন্তু বেশির ভাগ দর্শকই এটা পছন্দ করেছেন। আমরা এখন গল্পভিত্তিক ভালো কাজগুলো করতে চাই।’

