গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন বড়লেখা উপজেলার আহমদপুর গ্রামের করবুল নেছা (৬০), হিনাইনগর গ্রামের তাজ উদ্দিন (৪৫) এবং জুড়ী উপজেলার আমতৈল গ্রামের বিজয় বৈদ্য (৪৮) ও হরিরামপুর গ্রামের রিপন মিয়া (৩৮)। গত ১ নভেম্বর বড়লেখা ও জুড়ী থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ আগস্ট অজ্ঞাতপরিচয় এক নারী বড়লেখা উপজেলার হিনাইনগর গ্রামের রোকেয়া বেগমকে ফোন করেন। ওই নারী তাঁকে জানান, তাঁর অসুস্থ ছেলেকে কথিত ‘জিন্নী হুজুর’ সুস্থ করে দিতে পারবেন। তবে এ জন্য কিছু শর্ত মানতে হবে এবং বিষয়টি কাউকে জানানো যাবে না। কাউকে জানালে ছেলের ক্ষতি হতে পারে বলেও ভয় দেখানো হয়।
ছেলের সুস্থতার আশায় ওই নারীর কথায় বিশ্বাস করেন রোকেয়া বেগম। পরে তাঁকে বলা হয়, বাড়ির পেছনে ডিপ টিউবওয়েলের ম্যানহোলের ঢাকনার ওপর একটি পরিষ্কার বাটিতে স্বর্ণালংকার রেখে আসতে। নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি স্বর্ণালংকার সেখানে রেখে আসেন। প্রায় দুই ঘণ্টা পর ফিরে গিয়ে দেখেন, বাটিতে রাখা স্বর্ণালংকার নেই।
পরে ফোনে যোগাযোগ করলে তাঁকে জানানো হয়, ‘জিন্নী মুমিন’ স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছেন। এক মাসের মধ্যে তাঁর ছেলে সুস্থ হয়ে যাবে এবং স্বর্ণালংকারও ফেরত পাবেন বলে আশ্বাস দেওয়া হয়।
এরপর গত ১৬ অক্টোবর একই নারী আবারও রোকেয়া বেগমকে ফোন করেন। এবার আগের জায়গায় আরও স্বর্ণালংকার রেখে আসতে বলা হয়। তা না করলে ছেলে পাগল হয়ে যাবে এবং স্বর্ণালংকার রেখে এলে এক ঘণ্টার মধ্যে আগের স্বর্ণালংকারসহ সব ফেরত পাওয়া যাবে বলে ভয় দেখানো হয়। ছেলের ক্ষতির আশঙ্কায় এবারও ওই নারীর কথায় বিশ্বাস করে একই স্থানে স্বর্ণালংকার রেখে আসেন ভুক্তভোগী। কিন্তু ফিরে গিয়ে সেগুলো আর পাননি।
এভাবে দুই দফায় রোকেয়া বেগমের কাছ থেকে মোট ৫ ভরি ৬ আনা ২ রতি ২ পয়েন্ট স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করা হয়। এসব স্বর্ণালংকারের আনুমানিক মূল্য ১১ লাখ ৭৪ হাজার ৭১২ টাকা।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গ্রেফতার চারজন
ঘটনার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করে অভিযানে নামে বড়লেখা থানা পুলিশ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শেখ কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে এএসআই প্রসেন কান্তি দাস, এএসআই সন্তোষ কুমার বিশ্বাসসহ পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে।
প্রথমে বড়লেখা উপজেলার আহমদপুর ও হিনাইনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে করবুল নেছা ও তাজ উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জুড়ী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিজয় বৈদ্য ও রিপন মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতার ব্যক্তিদের হেফাজত থেকে আত্মসাৎ করা স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মালামালের মধ্যে রয়েছে একটি সিতাহার, দুই জোড়া ঝুমকা ও একটি আংটি। ভুক্তভোগী নিজেই উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালংকার শনাক্ত করেছেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১ নভেম্বর বড়লেখা থানায় পেনাল কোডের ৪০৬, ৪২০ ও ৩৪ ধারায় মামলা করা হয়েছে। গ্রেফতার চারজনকে সোমবার (২ নভেম্বর) বিধি অনুযায়ী আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

