রোববার বিকেলে কমলগঞ্জ পৌর এলাকার বড়গাছ গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত জাহাঙ্গীর আলম ওই গ্রামের উম্মর মিয়ার ছেলে। তিনি ১৪ মাস বয়সী শুভ নামের এক সন্তানের জনক ছিলেন।
পুলিশ, নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলার রামপাশা গ্রামের দুলা মাস্টারের লন্ডনপ্রবাসী ছেলে রিপন আহমেদের জমি বিক্রিকে কেন্দ্র করে মধ্যস্থতাকারী জাহাঙ্গীরদের সঙ্গে একই গ্রামের মৃত রশিদ মিয়ার ছেলে মাহমুদ মিয়া (৩৫), মামুন মিয়া (৩০) ও ময়নুল হকের বিরোধ তৈরি হয়।
রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাহাঙ্গীরের চাচাতো ভাই সাহেল জমি কেনার উদ্দেশ্যে দুজনকে সঙ্গে নিয়ে ওই এলাকায় আসেন। এ সময় জমি নিয়ে কথা বলার জন্য জাহাঙ্গীরের বড় ভাই জহিরুল ইসলাম জসিমকে ডেকে আনা হয়। জসিম ঘটনাস্থলে পৌঁছালে প্রতিপক্ষের লোকজন জমি বিক্রিতে বাধা দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা হয়।
একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন জসিমের মাথায় আঘাত করেন এবং দেশীয় অস্ত্র দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ছোট ভাইয়ের ওপর হামলার খবর পেয়ে জাহাঙ্গীর আলম দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে তাঁকেও মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত করা হয়।
পরে স্থানীয় লোকজন আহত দুই ভাইকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। তাঁদের অবস্থার অবনতি হলে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে জাহাঙ্গীরের মৃত্যু হয়। তাঁর বড় ভাই জসিমের অবস্থাও গুরুতর বলে জানা গেছে।
পূর্বপরিকল্পিত হামলার অভিযোগ
নিহতের চাচা সুন্দর আলী অভিযোগ করেন, এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। হামলায় ব্যবহারের জন্য দা ও লাঠি আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। তাঁর দাবি, মামুন, মাহমুদ ও ময়নুল—এই তিন ভাই এবং তাঁদের ভাগিনা সামি ও ভগ্নিপতি খয়ের মিলে তাঁর ভাই ও ভাতিজাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া গ্রামে মাদ্রাসাসংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়েও কিছুদিন আগে হামলাকারীদের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ তৈরি হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
একজন আটক, অন্যদের ধরতে অভিযান
কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কমর উদ্দিন জানান, নিহতের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে ময়নুল হক নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

