মিরপুরে শ্রমিক-পুলিশের সংঘর্ষ, বন্ধ মেট্রোরেল স্টেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক
spot_img
spot_img
রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকায় ফের সড়ক অবরোধ করেছেন আন্দোলনরত পোশাকশ্রমিকরা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সোয়া ১০টার দিকে শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান নিলে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পু/লিশ। জবাবে শ্রমিকরাও পু/লিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে পালটাপালটি ধাওয়া শুরু হয়।

শ্রমিক আন্দোলনের কারণে মিরপুর মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে চলমান আন্দোলনের মুখে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় এবং শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে কারখানা থেকে বের হয়ে যাওয়ায় মিরপুর, গাজীপুর-ময়মনসিংহ ও সাভার-আশুলিয়া-জিরানীসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের ৬৭৯টি পোশাক কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কাজ না করেই বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন ১৬ লাখ ৮০ হাজার ৫৭২ জন শ্রমিক।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের দুই হাজার ১৩৪টি কারখানার মধ্যে এক হাজার ৪৫৫টি খোলা ছিল। সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত পাওয়া হিসাব অনুযায়ী, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে ৬৭৯টি কারখানার উৎপাদন বন্ধ ছিল।

বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, মিরপুরের ৩২০টি কারখানার মধ্যে ৫৫টি থেকে শ্রমিকরা বের হয়ে যান। এতে কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হন ৫৩ হাজার ৮৪০ জন শ্রমিক। গাজীপুর ও ময়মনসিংহের ৮৩৬টি কারখানার মধ্যে ৩৮২টি বন্ধ ছিল।

এ ছাড়া সাভার-আশুলিয়া ও জিরানী শিল্পাঞ্চলের ৪৪১টি কারখানার মধ্যে ২২৩টিতে উৎপাদন বন্ধ ছিল। এসব কারখানার সাত লাখ ৪৩ হাজার শ্রমিক কাজ বন্ধ রাখেন। নারায়ণগঞ্জের ১৯৯টি কারখানার মধ্যে ৯টি থেকে শ্রমিকরা বের হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। তবে চট্টগ্রামের ৩৪০টি কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ কিংবা কাজ বন্ধের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

শিল্পাঞ্চলগুলোতে এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তৎপর রয়েছেন।

সর্বশেষ নিউজ