২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয় না মেনে কারচুপির অভিযোগে দীর্ঘ আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই চালালেও, এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পর সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী অবস্থান নিয়ে কোনো আপত্তি তোলেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়ের পর ট্রাম্পের এমন শান্ত প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে—তবে কি এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা তাঁর রাজনৈতিক আধিপত্য এবার ফিকে হতে শুরু করেছে?
৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে শুল্কনীতি, যুদ্ধ, জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং ব্যক্তিগত নানা কেলেঙ্কারির কারণে ভোটারদের তীব্র অসন্তোষের মুখে পড়ে রিপাবলিকানরা। ফলে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের প্রত্যাশার চেয়েও বড় জয় মিলেছে, এমনকি সাউথ ক্যারোলিনা, টেক্সাস ও কানসাসের মতো রিপাবলিকানদের ঐতিহ্যবাহী শক্ত ঘাঁটিতেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন। ফল বিশ্লেষকরা এই পরাজয়কে ১৯৭৪ সালের ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারি-পরবর্তী রাজনৈতিক ধসের সঙ্গে তুলনা করছেন। নির্বাচনে নিজে ট্রাম্প ব্যাপক প্রচার চালালেও তাঁর সমর্থিত প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন। তবে নিজের ব্যর্থতা না মেনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের দুর্বলতাকেই পরাজয়ের কারণ হিসেবে উল্লেখ করলেও, ২০২৭ সাল থেকে কংগ্রেসের দুই কক্ষই ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখন বড় রাজনৈতিক চাপ ও কঠিন বাধার পূর্বাভাস দেখা যাচ্ছে।

