মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার বাদী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পিরোজপুরের দুই মুক্তিযোদ্ধা। তাঁদের অভিযোগ, সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার পুরস্কার হিসেবে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার তাঁকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দিয়েছিল।
শনিবার ৮৭ বছর বয়সে মারা যান মানিক পশারী। তাঁর মরদেহ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়া ও দাফন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। জামায়াতের পক্ষ থেকে তাঁকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা দাবি করার পর বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য দেন পিরোজপুরের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বাতেন ও মির্জা জহিরুল হক।
আব্দুস সালাম বাতেনের দাবি, সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে মানিক পশারীকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, মির্জা জহিরুল হক বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার পর মানিক পশারীকে মুক্তিযোদ্ধা করা হলেও পরবর্তী সময়ে তাঁর স্বীকৃতি যাচাই-বাছাই করা হয়নি।
তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা হওয়ায় নিয়ম অনুসারে মানিক পশারীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। তবে এ নিয়ে আপত্তি ও জটিলতা তৈরি হয়।
শনিবার সকালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাতার বাড়িতে মানিক পশারীর মৃত্যু হয়। পরে তাঁর মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে আনা হলে গার্ড অব অনার ও দাফন নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। বিকেলে পুলিশ লাইনসে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। রাত ১টা ২০ মিনিটে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
তবে মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাই বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

